Home / খবর / জেলায় জেলায় / দুর্গাপুরের হোটেলে নাবালিকা ধর্ষণের ঘটনায় তোলপাড়, সিটি সেন্টারের হোটেল ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য, তদন্তে পুলিশ

দুর্গাপুরের হোটেলে নাবালিকা ধর্ষণের ঘটনায় তোলপাড়, সিটি সেন্টারের হোটেল ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য, তদন্তে পুলিশ

দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে ফের এক নাবালিকা ধর্ষনের অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল। অভিযোগের তীর এবার সিটি সেন্টার এলাকার একটি হোটেলের দিকে। এক অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীর উপর সংঘবদ্ধ ধর্ষনের অভিযোগ উঠতেই এলাকা জুড়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, শিল্পাঞ্চলের কিছু হোটেল কি বেআইনি কর্মকাণ্ডের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠছে?

পরিবারের অভিযোগ, বুদবুদ থানা এলাকার এক নাবালিকা ছাত্রীকে পরিচিত এক তরুণী বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর তাকে মদ্যপান করানো হয় এবং পরে দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার এলাকার একটি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ। সেখানে কয়েকজন যুবক তার উপর পাশবিক নির্যাতন চালায় বলে পরিবারের দাবি।

ধর্ষিতার বাবার অভিযোগ, ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে এক তরুণীও রয়েছে, যিনি নাবালিকাকে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। পরিবারের দাবি, ঘটনার পর নাবালিকাকে বুদবুদ বাইপাস এলাকায় ফেলে রেখে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পরে এক টোটো চালক অসহায় অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেন।

শনিবার রাতেই পরিবারের পক্ষ থেকে দুর্গাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যেই কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ঘটনায় ফরেন্সিক তদন্তও শুরু হয়েছে। ধৃতদের আদালতে পেশ করে পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হতে পারে।

এদিকে, এই ঘটনাকে ঘিরে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন হোটেলে নাবালিকা শোষণ ও বেআইনি কর্মকাণ্ড নিয়ে পুরনো অভিযোগও ফের সামনে আসছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই কিছু হোটেলকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠছিল। যদিও সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলির এখনও যাচাই করা
সম্ভব হয়নি এবং প্রশাসনের তরফে সব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।

এই ঘনায় রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে প্রতিক্রিয়া। বিভিন্ন মহল থেকে দোষীদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তির দাবি উঠেছে। এক বিজেপি যুব নেতা বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নিতে হবে। নাবালিকার উপর এই ধরনের অপরাধ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

অন্যদিকে, পুলিশ কমিশনারেটের এক কর্তা জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে এই ঘটনার পর ফের প্রশ্ন উঠছে, নাবালিকাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নজরদারি কতটা কড়া? অভিযোগের জাল কতদূর বিস্তৃত? তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেই উত্তর সময়ই দেবে।

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *