Home / খবর / জেলায় জেলায় / বেতন বৃদ্ধি ও স্থায়ীকরণের দাবিতে আসানসোল জেলা হাসপাতালে অস্থায়ী কর্মীদের কর্মবিরতি, সুপারের আশ্বাসে আন্দোলন প্রত্যাহার

বেতন বৃদ্ধি ও স্থায়ীকরণের দাবিতে আসানসোল জেলা হাসপাতালে অস্থায়ী কর্মীদের কর্মবিরতি, সুপারের আশ্বাসে আন্দোলন প্রত্যাহার

আসানসোল: মাত্র ১৫০ টাকার দৈনিক মজুরিতে বছরের পর বছর কাজ করতে হচ্ছে, এই অভিযোগে বুধবার সকাল থেকে কর্মবিরতি ও অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হলেন আসানসোল জেলা হাসপাতালের ৩৭ জন অস্থায়ী কর্মী। বেতন বৃদ্ধি, স্থায়ীকরণ এবং পরিচয়পত্র প্রদানের দাবিতে হাসপাতালের এমার্জেন্সি বিভাগের সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভে বসেন তাঁরা। কয়েক ঘণ্টার এই আন্দোলনের জেরে হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, করোনা অতিমারির সময় থেকে তাঁরা হাসপাতালের হাউজকিপিং-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে চলেছেন। অথচ এখনও তাঁদের “নো ওয়ার্ক, নো পে” ভিত্তিতে মাত্র ১৫০ টাকা দৈনিক মজুরি দেওয়া হয়। বর্তমান বাজারদরে এই টাকায় সংসার চালানো কার্যত অসম্ভব বলেই দাবি তাঁদের। পাশাপাশি দীর্ঘদিন কাজ করলেও এখনও স্থায়ীকরণ বা সরকারি পরিচয়পত্র পাননি তাঁরা।
আন্দোলনকারী কর্মী সায়ন দাস ও ঝর্ণা বাউরি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একই হারে মজুরি পাচ্ছি। একাধিকবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে বেতন বৃদ্ধি, স্থায়ীকরণ ও পরিচয়পত্রের দাবি জানিয়েছি। কিন্তু কোনও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। উল্টে অপমানিত হতে হয়েছে। তাই বাধ্য হয়েই আন্দোলনের পথে নামতে হয়েছে।
বুধবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ হাসপাতালের সুপার ডাঃ নিখিল চন্দ্র দাস-এর নির্দেশে সহকারী সুপার কঙ্কন রায় আন্দোলনরত কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বৈঠকে তাঁদের কাজে ফিরে যাওয়ার আবেদন জানিয়ে সমস্ত দাবি লিখিতভাবে জমা দিতে বলা হয়। একই সঙ্গে দাবিগুলি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করার আশ্বাসও দেওয়া হয়।
প্রশাসনের আশ্বাসে আপাতত আন্দোলন প্রত্যাহার করে কাজে যোগ দেন অস্থায়ী কর্মীরা।
তবে তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, লিখিত দাবি জমা দেওয়ার পরও যদি সমস্যার সমাধান না হয়, তাহলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন।
এদিকে হাসপাতালের সুপার ডাঃ নিখিল চন্দ্র দাস বলেন, সামান্য কিছু সমস্যা হয়েছিল। আলোচনা হয়েছে এবং বিষয়টির সমাধান হয়ে গেছে।
এখন দেখার বিষয়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আশ্বাস কতটা বাস্তবে রূপ পায়। দীর্ঘদিন ধরে স্বল্প মজুরিতে পরিষেবা দিয়ে আসা এই অস্থায়ী কর্মীদের দাবি পূরণে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেদিকেই নজর সকলের।

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *