দুর্গাপুর: বৃষ্টি ও বজ্রপাতের মধ্যে ১১ হাজার ভোল্টের হাইটেনশন বিদ্যুৎ লাইনে কাজ করতে গিয়ে এক ঠিকা কর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মৃতের নাম উত্তম ঘোষ (৩৫)। তিনি দুর্গাপুরের ইস্পাত পল্লীর বাসিন্দা। সোমবার গভীর রাতে দুর্গাপুরের এ-জোনের ক্ষুদিরাম মাঠ সংলগ্ন এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে ১১ হাজার ভোল্টের হাইটেনশন লাইনে সেফটি বেল্ট বেঁধে মেরামতির কাজ করছিলেন উত্তম ঘোষ। নিচে দু’জন স্থায়ী কর্মী ও একটি গাড়ির চালক উপস্থিত ছিলেন। সেই সময় প্রবল বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত হচ্ছিল। কাজ চলাকালীন আচমকাই উত্তম ঘোষ বিদ্যুতের খুঁটির উপরে ঝুলে পড়েন। বিষয়টি নজরে আসতেই সহকর্মীরা দমকল বাহিনীকে খবর দেন।
দমকল কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মঙ্গলবার সকাল থেকে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালের সামনে মৃত শ্রমিকের পরিবার, সহকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের সদস্যরা বিক্ষোভে সামিল হন। তাঁদের দাবি, মৃত কর্মীর পরিবারের একজন সদস্যকে স্থায়ী চাকরি দিতে হবে এবং উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।
মৃত কর্মীর সঙ্গে ঘটনাস্থলে থাকা গাড়ির চালক হেমন্ত বাউরি জানান, হাইটেনশন লাইনে কাজ শুরুর আগে নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। তবে কাজের সময় প্রবল বজ্রপাত হচ্ছিল। তাঁর অনুমান, বজ্রপাতের জেরেই উত্তম ঘোষ অচৈতন্য হয়ে পড়েন, যার ফলেই এই মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এই ঘটনায় শিল্পাঞ্চলের ঠিকা শ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও কেন হাইটেনশন লাইনে কাজ চলছিল, নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।










