Home / খবর / জেলায় জেলায় / শিল্প দূষণে ‘বিষাক্ত’ সগরভাঙ্গা! গ্রাফাইট ও এসআরএমবি কারখানার ধোঁয়ায় অতিষ্ঠ মানুষ, ক্যান্সারের আতঙ্কে এলাকার মানুষ, নতুন বিজেপি সরকারের হস্তক্ষেপের দাবি

শিল্প দূষণে ‘বিষাক্ত’ সগরভাঙ্গা! গ্রাফাইট ও এসআরএমবি কারখানার ধোঁয়ায় অতিষ্ঠ মানুষ, ক্যান্সারের আতঙ্কে এলাকার মানুষ, নতুন বিজেপি সরকারের হস্তক্ষেপের দাবি

অমল মাজি, দুর্গাপুর:

শিল্পনগরী দুর্গাপুরের বুকে যেন ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে এক ‘নিঃশব্দ গ্যাস চেম্বার’! অভিযোগ, সগর ভাঙ্গা এলাকায় একের পর এক শিল্প কারখানার লাগামছাড়া দূষণে কার্যত বিপন্ন হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষের জীবন। গ্রাফাইট কারখানা, এসআরএমবি কারখানা এবং একটি বেসরকারি গুডস লোডিং-আনলোডিং সংস্থার দূষণে সগর ভাঙ্গা কলোনি, জোনাল সেন্টার, দেশবন্ধু কলোনি থেকে সগর ভাঙ্গা মার্কেট সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা আজ কার্যত ‘বিষাক্ত বাতাসে’ ঢেকে গিয়েছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের পর দিন শিল্প কারখানাগুলিতে দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য থাকা অত্যাবশ্যক পলিউশন কন্ট্রোল সিস্টেম ঠিকমতো চালানো হয় না। ফলে বাতাসে অবাধে মিশছে কালো ধোঁয়া, সূক্ষ্ম ধূলিকণা ও শিল্প বর্জ্যের ক্ষতিকর উপাদান। অভিযোগ, প্রতিদিন সকাল হলেই ঘরের আসবাব, জানালা, ছাদ, এমনকি শুকোতে দেওয়া জামাকাপড় পর্যন্ত কালো ধুলোর স্তরে ঢেকে যাচ্ছে। শিশু থেকে বৃদ্ধ, কারোর রেহাই নেই।
“ধীরে ধীরে বিষ খেয়ে বেঁচে আছি”, এমনই ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন বহু বাসিন্দা। অভিযোগ, দূষণের জেরে এলাকায় শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, চর্মরোগ, চোখে জ্বালা, ফুসফুসের সংক্রমণসহ একাধিক জটিল রোগ বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। এমনকি স্থানীয়দের একাংশের দাবি, গত কয়েক বছরে ক্যান্সার আক্রান্তের সংখ্যাও বেড়েছে উদ্বেগজনকভাবে। যদিও সরকারি পরিসংখ্যান এখনও প্রকাশ্যে আসেনি, তবুও বাসিন্দাদের প্রশ্ন, “মানুষ মরার পরই কি প্রশাসন নড়বে?”
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে। অভিযোগ, এত গুরুতর দূষণের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ ও প্রশাসনের দৃশ্যমান কড়া পদক্ষেপ এখনও চোখে পড়েনি। একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও পরিস্থিতির খুব একটা বদল হয়নি বলেই দাবি স্থানীয়দের। ফলে ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে।
এলাকাবাসীর স্পষ্ট দাবি,
অবিলম্বে বায়ুদূষণের মাত্রা বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষা করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট কারখানাগুলিতে দূষণ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র নিয়মিত চালানো বাধ্যতামূলক করতে হবে।
এলাকায় বিশেষ স্বাস্থ্য শিবির ও মেডিক্যাল স্ক্রিনিং ক্যাম্প চালু করতে হবে। দূষণের জন্য দায়ী সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে।
রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর শিল্পাঞ্চলের নানা অনিয়ম নিয়ে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। এবার প্রশ্ন উঠছে, শিল্পের নামে মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে এই ‘মরণখেলা’ বন্ধে নতুন সরকার কি কঠোর অবস্থান নেবে? নাকি কালো ধোঁয়া আর বিষাক্ত বাতাসের মধ্যেই দিন কাটাতে বাধ্য হবেন সগর ভাঙ্গার মানুষ?

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *