Home / খবর / জেলায় জেলায় / শিল্পের নামে দূষণের থাবা! ভূগর্ভের জল শুষে নিচ্ছে স্পঞ্জ আয়রন কারখানা, দুর্গাপুরের একাধিক গ্রামে ক্ষোভ, শ্রমিক বঞ্চনার অভিযোগ

শিল্পের নামে দূষণের থাবা! ভূগর্ভের জল শুষে নিচ্ছে স্পঞ্জ আয়রন কারখানা, দুর্গাপুরের একাধিক গ্রামে ক্ষোভ, শ্রমিক বঞ্চনার অভিযোগ

অমল মাজি

:শিল্পায়নের নামে একসময় উন্নয়নের স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল। কিন্তু সেই শিল্পই আজ বহু গ্রামের মানুষের কাছে যেন অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনই অভিযোগ উঠছে দুর্গাপুরের অঙ্গদপুর, রাতুরিয়া, বামুননাড়া, গোপালপুর,বাঁশকোপা, নামো সগর ভাঙ্গা, কমলপুর-সহ একাধিক গ্রাম এলাকার বাসিন্দাদের মুখে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বামফ্রন্ট আমলে এইসব গ্রামের গা ঘেঁষে একের পর এক স্পঞ্জ আয়রন কারখানা গড়ে ওঠে। শিল্প স্থাপনের সময় কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের আশ্বাস দেওয়া হলেও, বর্তমানে সেই কারখানাগুলির বিরুদ্ধে পরিবেশ দূষণ থেকে শুরু করে ভূগর্ভস্থ জলস্তর ধ্বংসের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠছে।
বাসিন্দাদের দাবি, বহু কারখানায় সরকারি নিয়মকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে একাধিক উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মার্সেবল পাম্প বসিয়ে দিনের পর দিন ভূগর্ভের জল তোলা হচ্ছে। অভিযোগ, কোনও কোনও কারখানায় ১০ থেকে ১২টি পর্যন্ত মার্সেবল ব্যবহার করে লাগাতার জল উত্তোলনের ফলে এলাকার জলস্তর বিপজ্জনকভাবে নেমে গিয়েছে। এর জেরে বহু পুকুর, কুয়ো এবং ছোট-বড় জলাশয় প্রায় শুকিয়ে গেছে।
গ্রামবাসীদের কথায়, “আগে যে কুয়ো বা পুকুরের জল দিয়ে সংসার চলত, নিত্য প্রয়োজনে ব্যবহার হতো, এখন সেখানে জল নেই বললেই চলে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জল জোগাড় করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক এলাকায় পানীয় জলও বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
শুধু জল সংকট নয়, পরিবেশ দূষণ নিয়েও ক্ষোভ বাড়ছে। অভিযোগ, স্পঞ্জ আয়রন কারখানার কালো ধোঁয়া, ছাই ও দূষিত বর্জ্যে ফসলি জমি, গাছপালা এবং মানুষের স্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। বহু বাসিন্দার দাবি, শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ-সহ নানা স্বাস্থ্য সমস্যা বেড়েছে এলাকায়।
এর পাশাপাশি শ্রমিক শোষণের অভিযোগও সামনে এসেছে। স্থানীয় সূত্রে দাবি, সরকারি নির্ধারিত নিয়ম ও মজুরি কাঠামোকে উপেক্ষা করে বহু শ্রমিককে কম বেতনে দীর্ঘ সময় কাজ করানো হচ্ছে। অভিযোগ, ন্যায্য মজুরি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও শ্রমিক কল্যাণের বহু নিয়মই মানা হয় না। ফলে একদিকে পরিবেশ বিপর্যয়, অন্যদিকে শ্রমিক বঞ্চনা, দুইয়ের চাপে ক্ষোভ বাড়ছে শিল্পাঞ্চল লাগোয়া গ্রামগুলিতে।
এলাকাবাসীদের একাংশের দাবি, অবিলম্বে পরিবেশ দফতর, শ্রম দফতর ও প্রশাসনের যৌথ তদন্ত করে কারখানাগুলির বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখা হোক। প্রয়োজনে বেআইনি জল উত্তোলন বন্ধ করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও উঠেছে।
তবে এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত কারখানা কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। রাজ্যে নতুন সরকার আসার পর, প্রশাসনের তরফে কী পদক্ষেপ করা হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে দুর্গাপুরের একাধিক গ্রামের মানুষ।

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *