পাণ্ডবেশ্বর: ফের ধস নামল পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভা এলাকার হরিপুর সরকারি বিদ্যালয় চত্বরে। মঙ্গলবার সকালে টানা ভারী বৃষ্টির পর স্কুলের মিড-ডে মিলের রান্নাঘরের পাশেই বিশাল আকারের ধস নামায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্কুলে পড়াশোনা করা ৫২৮ জন ছাত্রছাত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর নেই, তবে বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন শিক্ষক, অভিভাবক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের দাবি, খনি এলাকার মাটির নিচে থাকা ফাঁকা অংশ বা পুরনো খনি গ্যালারির কারণে এই ধরনের ভূমি ধসের আশঙ্কা থাকে। তার উপর টানা বৃষ্টির জল মাটির নিচে ঢুকে মাটির স্থায়িত্ব আরও কমিয়ে দিতে পারে। খনি অঞ্চলে এই ধরনের ভূ-অবনমন নতুন ঘটনা নয়। ফলে স্কুল চত্বরের মাটির স্থায়িত্ব নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরীক্ষা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এই স্কুলে এর আগেও ধসের ঘটনা ঘটেছিল। অভিযোগ, ২০২৩ সালেও একই স্কুল চত্বরে ধস নেমেছিল। সেই সময় ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেডের কেন্দা এরিয়া কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্কুলটি অন্যত্র পুনর্বাসনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি স্থানীয়দের। কিন্তু দুই বছর পরও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হওয়ায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, ২০২৩ সালের ঘটনার পর স্কুল চত্বরের মাটির স্থায়িত্ব নিয়ে কোনও বিস্তারিত ভূ-প্রযুক্তিগত সমীক্ষা করা হয়েছিল কি না। স্কুলটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মধ্যে পড়ে কি না, সেই বিষয়েও প্রশাসন ও ECL-এর কাছে স্পষ্ট তথ্য দাবি করা হয়েছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের ৫২৮ জন পড়ুয়া প্রতিদিন এই স্কুলে আসে। এমন একটি জায়গায় স্কুল চলতে থাকলে ভবিষ্যতে বড় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। বিশেষ করে মিড-ডে মিলের রান্নাঘরের পাশেই নতুন করে ধস নামায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
ঘটনার পর শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। তাঁদের দাবি, কোনও দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির অপেক্ষা না করে অবিলম্বে স্কুলটি নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করতে হবে এবং নতুন ভবন তৈরি করতে হবে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সাহায্যে যখন মাটির স্থায়িত্ব পরীক্ষা করা সম্ভব, তখন বারবার ধসের পরও কেনও এই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় স্কুল চালু থাকবে? ৫২৮ জন পড়ুয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ECL ও প্রশাসন দ্রুত কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।










