রানিগঞ্জ: সম্প্রতি রানিগঞ্জ রেলস্টেশনের কাছে ঘটে যাওয়া সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের উত্তেজনা ছড়াল। ওই ঘটনাটি বিজেপি ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা হলেও, পরবর্তীতে বিজেপি এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, দুই সংগঠনের নেতারাই পৃথকভাবে সাংবাদিক বৈঠক করে দাবি করেছিলেন যে, ওই ঘটনার সঙ্গে তাঁদের সংগঠনের কোনও সম্পর্ক নেই। তবে ঘটনার পর পুলিশ বিজেপির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। অভিযোগ, তাঁদের বিরুদ্ধে তফসিলি জাতি ও উপজাতি সংক্রান্ত আইনের অর্থাৎ SC-ST Act-এর ধারাও প্রয়োগ করা হয়েছে।
এই মামলা এবং পুলিশের ভূমিকার প্রতিবাদ জানাতে আজ রানিগঞ্জ থানায় উপস্থিত হন বিজেপি নেতা আনন্দ সাউ, তপন চক্রবর্তী এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সেক্রেটারি বিশ্বজিৎ গোরাই। তাঁদের অভিযোগ, যে ঘটনায় বিজেপি বা বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কোনও যোগ নেই বলে সংগঠনের পক্ষ থেকেই স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, সেই ঘটনায় বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে SC-ST Act-এর মতো গুরুতর আইন প্রয়োগ করা হয়েছে। এই বিষয়েই পুলিশের কাছে নিজেদের আপত্তি ও প্রতিবাদ জানাতে তাঁরা থানায় যান।
থানায় পৌঁছনোর পর বিজেপি নেতারা পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা ও SC-ST Act-এর ধারা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা করা হয় বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু পুলিশের বক্তব্যে সন্তুষ্ট না হয়ে তাঁরা থানার মধ্যেই নিজেদের প্রতিবাদ অব্যাহত রাখেন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছুটা উত্তেজনাও তৈরি হয় রানিগঞ্জ থানায়। বিজেপি নেতারা তাঁদের বক্তব্যে বারবার দাবি করেন, পুলিশের এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ঘটনার প্রকৃত তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তাঁদের অভিযোগ, ঘটনার সঙ্গে সংগঠনের কোনও সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও বিজেপি নেতাদের টার্গেট করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, পুলিশের তরফে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হয়। থানার আধিকারিকরা বিজেপি নেতাদের শান্ত করার এবং থানার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখার জন্য তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিবাদ চলতে থাকায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
শেষ পর্যন্ত পুলিশ বিজেপি নেতা আনন্দ সাউ এবং তপন চক্রবর্তীকে থানার চত্বরে অশান্তি সৃষ্টি করার অভিযোগে আটক করে। তাঁদের থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানা গিয়েছে। ঘটনায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সেক্রেটারি বিশ্বজিৎ গোরাইও থানায় উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, রানিগঞ্জ রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় সম্প্রতি একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনাটিকে ঘিরে প্রথম থেকেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়। বিভিন্ন মহলে ঘটনাটিকে বিজেপি ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হিসেবে দাবি করা হলেও, পরবর্তীতে দুই সংগঠনের নেতারাই সাংবাদিক বৈঠক করে এই ঘটনার সঙ্গে তাঁদের সংগঠনের কোনও যোগ নেই বলে দাবি করেন।
তবে পুলিশি তদন্তের পর বিজেপির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হওয়ায় বিষয়টি আরও রাজনৈতিক গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে SC-ST Act-এর ধারা প্রয়োগ করা নিয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে তীব্র আপত্তি জানানো হচ্ছে।
বিজেপি নেতাদের দাবি, পুলিশ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত না করে রাজনৈতিক চাপের কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। অন্যদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগ ও তদন্তের ভিত্তিতেই আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হয়েছে।
এদিন রানিগঞ্জ থানায় বিজেপি নেতাদের বিক্ষোভ এবং পরবর্তীতে দুই নেতাকে আটকের ঘটনায় এলাকায় ফের রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, এই মামলাকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে বিজেপি কী ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে।









