অভিষেক সেনগুপ্ত, জলপাইগুড়ি: আবর্জনায় কখনও বা মেলে ফেলে দেওয়া ধাতব সামগ্রী-সহ আরও মূল্যবান কিছু। সে গুলি সংগ্রহ করে, বেচেই সংসার চলে অনেকের। পেটের টানে মারাঠা মুলুকের গিরনা নদী থেকে সটান করলা পারে। শহরের করলা নদী ও পাড়ে থাকা আবর্জনা থেকে রূপা, তামা-সহ নানা ধাতু সংগ্রহ করছেন জনাকয়েক ভিন রাজ্যের মানুষ। দলে রয়েছেন মহিলারাও। প্রাপ্ত সামগ্রী বিক্রি করে আয়ও হচ্ছে। বছরের কয়েকটা মাস এখানেই অস্থায়ী বাসস্থান বানিয়ে উপার্জন করছেন তাঁরা।
দেশের ওই দুই প্রান্তের দূরত্ব কমবেশি প্রায় হাজার দুয়েক কিলোমিটার। প্রতি বছর এই পথ পেরিয়েই তিস্তা-করলা র শহরে আসেন জনা পনেরো মারাঠি মহিলা-পুরুষ। শহরে কয়েকমাসের জন্য অস্থায়ী আবাস গড়ে উপার্জন করেন তারা। ওদের ঘুম ভাঙে সাত সকালে। পেটে সামান্য দানাপানি পড়তেই শুরু নদীর পাড়ে চড়তে বেরোনো। শহরের অলিগলির পাশাপাশি নদীর পাড়ে পড়ে থাকা আবর্জনা, এমনকি নদীতে ভেসে যাওয়া নানা সামগ্রীও আতিপাতি করে খুঁজে দেখেন তাঁরা। এখন করলা নদীতে জল কম। যেসব ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন হয়, সেগুলোই ‘টার্গেট’ করছেন তুকারাম, ধন্দু, সুদেবরা। নদীতে ডুব দিয়ে মাটি সংগ্রহ করেন তারা। এরপর সেই মাটি পরিষ্কার করে ধুয়ে তার মধ্য থেকে খুঁজে বের করেন সোনা, রুপা এবং লোহার ক্ষুদ্র কণা। অনেক সময় নর্দমায়ও নামতে হয় তাদের। পরে ন্যায্য দাম পেলে বিক্রি করে দেন সেগুলো।
শুধু নদী নয়, জলপাইগুড়ি শহরের বিভিন্ন সোনার দোকানের সামনে কিংবা ড্রেনের মাটি সংগ্রহ করেও তারা একইভাবে মূল্যবান ধাতু খোঁজেন। এই কাজ সম্পূর্ণভাবে অভিজ্ঞতা এবং কৌশলের ওপর নির্ভরশীল বলে জানান তারা। সন্ধ্যায় অস্থায়ী বাড়িতে ফিরে চলে রান্নার আয়োজন। সুদেব জানান, বছরে ৭-৮ মাস এখানেই থাকি। কাজটা কঠিন। নোংরা ও দূষিত জল, আবর্জনার কারণে স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকলেও পেটের দায়ে কাজটা করতে হয়ে। গড়ে দৈনিক যা আয় হয় তাতে মোটামুটি সংসার চলে যায়। বাংলায় ভোটের উত্তাপ নিয়ে হেলদোল নেই তাদের কারোরই। আয় ভালো হোক এটাই চান তাঁরা।










