Home / খবর / জেলায় জেলায় / পর্যটন ইস্যুতে গরম সুন্দরবনের কুলতলি, কৈখালি-মৈপীঠ ঘিরে শাসক-বিরোধীর জোর প্রচার

পর্যটন ইস্যুতে গরম সুন্দরবনের কুলতলি, কৈখালি-মৈপীঠ ঘিরে শাসক-বিরোধীর জোর প্রচার

উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, কুলতলি: সুন্দরবনের অন্যতম প্রবেশদ্বার কুলতলি। আগামী দিনে এই অঞ্চলের কৈখালি ও মৈপীঠকে বড় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি ঘিরেই এখন তুঙ্গে নির্বাচনী প্রচার। শাসক থেকে বিরোধী—সব রাজনৈতিক দলই এই ইস্যুকে সামনে এনে ভোটের ময়দানে নেমেছে।

জয়নগর ২ নম্বর ব্লকের ৪টি এবং কুলতলি ব্লকের ৯টি পঞ্চায়েত মিলিয়ে মোট ১৩টি পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত কুলতলি বিধানসভা। এই বিস্তীর্ণ এলাকায় পর্যটনের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে উন্নয়নের বার্তা দিচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলি। বিশেষ করে শীতকালে কৈখালি-মৈপীঠে পর্যটকদের ভিড় উপচে পড়ে। মাতলা নদীর তীরে সময় কাটিয়ে অনেকেই সুন্দরবনের দিকে পাড়ি দেন।

কৈখালিতে নিমপীঠ রামকৃষ্ণ আশ্রম পরিচালিত লজ পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়। অন্যদিকে, মৈপীঠের গঙ্গার ঘাট ও ঠাকুরান নদীর পাড় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য আকর্ষণের কেন্দ্র। ইতিমধ্যেই কৈখালি ও মৈপীঠ এলাকায় রঙিন আলোর ব্যবস্থাও করা হয়েছে। নদীবাঁধ সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এই উন্নয়ন পরিকল্পনাকেই হাতিয়ার করে প্রচার চালাচ্ছেন কুলতলির তৃণমূল প্রার্থী গণেশ চন্দ্র মণ্ডল। তাঁর দাবি, শুধু কৈখালি নয়, মৈপীঠের গঙ্গার ঘাটকেও আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। “আগামী দিনে সুন্দরবনের নতুন ডেস্টিনেশন হবে এই অঞ্চল,” বলেন তিনি।

যদিও এই দাবিকে কটাক্ষ করেছে বিরোধীরা। বিজেপি প্রার্থী মাধবী মহলদারের মতে, “আগে এলাকার রাস্তাঘাট ঠিক করা হোক। পর্যটনের নামে গাছ কেটে শুধু প্রচার চালানো হচ্ছে, এতে মানুষের আস্থা ফিরবে না।”

অন্যদিকে, প্রাক্তন বিধায়ক ও সিপিআইএম প্রার্থী রামশঙ্কর হালদার বলেন, “তৃণমূল আর ফিরবে না। পর্যটনের উন্নয়ন বামরাই করতে পারবে।”

এই বিধানসভায় প্রায় ৩৫ শতাংশ মুসলিম ভোটার রয়েছেন, ফলে ভোটের অঙ্কেও তা গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। শাসক দল যেমন এই ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখতে তৎপর, তেমনই বিরোধীরাও ভাগ বসাতে মরিয়া।

সব মিলিয়ে, পর্যটন উন্নয়ন ইস্যুতে জমে উঠেছে কুলতলির লড়াই। এখন দেখার, ভোটের ফলাফলে কার ঝুলিতে যায় এই কেন্দ্র। তবে এলাকার সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা একটাই—কথার বাইরে গিয়ে সত্যিই যেন পর্যটনের হাল ফেরে।

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *