মুকুট তপাদার
বাগবাজারে সংঘজননী মা সারদার বাড়ির নকশা করে দিয়েছিলেন শিল্পাচার্য নন্দলাল বসু। ১৯০৯ সালে ২৩ মে মা প্রথমবার বাগবাজারের উদ্বোধন বাটীতে পদার্পন করেছিলেন। যা আজ মায়ের বাড়ি নামেই পরিচিত। তিনি এই বাড়িতেই বহু বছর কাটিয়েছিলেন। এখান থেকেই সকল ভক্তদের আধ্যাত্মিক দীক্ষা দিতেন। অক্ষয় তৃতীয়ার পূণ্য তিথিতে মা এই বাড়িতে এসেছিলেন। স্বামী সারদানন্দের অনুরোধে এখানে তিনি স্থায়ীভাবে থাকা শুরু করেন। বর্তমানে এই জায়গাটি রামকৃষ্ণ মঠের সন্ন্যাসী ভক্তদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত বাংলা মাসিক পত্রিকা ‘উদ্বোধন’-এর কার্যালয় হিসেবে।
সিস্টার নিবেদিতা বলছেন, সকল মহান বিপ্লবীরা মায়ের চরণ স্পর্শ করতে এই বাড়িতে নিয়মিত আসতেন।
বাগবাজারে মায়ের বাড়িকে ১৯৫১ সালে শিল্পগুরু নন্দলাল বসু সাজিয়ে তুলেছিলেন নানা অলংকরণে। বিশ্বভারতীর মাস্টারমশাই নন্দলাল বসুর একটি নকশা পাওয়া যায়। মায়ের বাড়িতে কিভাবে সাজিয়ে তুলেছিলেন সেই নকশায় শিল্পগুরুর ভাবনা প্রতিফলিত হয়। নানা রকম ভাস্কর্য, পদ্ম ফুলের মোটিফ, বিভিন্ন নকশা দিয়ে সেজে উঠেছিল বাগবাজারে মায়ের বাড়ি। সম্পূর্ণ এই ভাবনাটির সাক্ষী ছিলেন স্বামী সারদানন্দ।
প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী নন্দলাল বসু বাগবাজারের ‘উদ্বোধন’ পত্রিকার কভার অলংকরণ করতেন। লোকশিল্প সম্পর্কে নন্দলাল বসুর ছিল গভীর জ্ঞান। চিত্রশিল্পী অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সুযোগ্য শিষ্য আচার্য নন্দলাল বসু আধুনিক ভারতীয় শিল্পের অন্যতম এক স্বনামধন্য শিল্পী। মায়ের বাড়িতে বিভিন্ন মূর্তি ভাস্কর্য দেওয়ালের মধ্যে বসানো হয়েছিল। যার বিশেষ এই ভাবনায় ছিলেন শিল্পগুরু। তার বানানো খসড়াতে সেই ছবিগুলো দেখা যায়।
কর্দমাক্ত পাঁকে জন্ম নিলেও পদ্মফুল বা পঙ্কজ কখনো সেই পঙ্কিল অবস্থায় হারিয়ে যায় না। সমস্ত প্রতিকূলতা ভেদ করে সে সোজা হয়ে মাথা তুলে দাঁড়ায়। নিজের নির্মল, শুভ্র রূপে প্রস্ফুটিত হয়। পদ্মের এই আত্মপ্রকাশ আমাদের শেখায় কীভাবে পারিপার্শ্বিক খারাপ পরিবেশ থেকে মুক্ত হয়ে অন্তরের পবিত্রতাকে ফুটিয়ে তোলা যায়।
স্বামী বিবেকানন্দ তাঁর গভীর শিল্প ভাবনায় পদ্মফুলকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করতেন। তাঁর মতে, পদ্ম কেবল একটি ফুল নয়। বরং তা মানুষের আধ্যাত্মিক চেতনা, প্রজ্ঞা এবং উচ্চতর জীবনের এক অনন্য প্রকাশ। যা আমাদের প্রতিনিয়ত প্রেরণা জোগায়। তাই শিল্পগুরু নন্দলাল বসুর ভাবনায় পদ্মফুলের অলংকার প্রাধান্য পেয়েছে। বাগবাজারের উদ্বোধন বাড়িতে এলে আজো নন্দলাল বসুর বিভিন্ন শিল্পকর্ম দেখতে পাওয়া যায়।
তথ্যসূত্র: উদ্বোধন কার্যালয়










