অমল মাজি, দুর্গাপুর
রাজ্য বাজেটে দুর্গাপুরে সেমিকন্ডাক্টর ইউনিট স্থাপনের ঘোষণা নিঃসন্দেহে শিল্পনগরীর জন্য একটি বড় বার্তা। দীর্ঘদিন ধরে ইস্পাত, কয়লা ও ভারী শিল্পের উপর নির্ভরশীল দুর্গাপুর এবার কি উচ্চপ্রযুক্তি শিল্পের নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠতে চলেছে? সেই প্রশ্নই এখন শিল্পমহল থেকে সাধারণ মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প শুধু একটি কারখানা নয়, বরং একটি সম্পূর্ণ শিল্প-ইকোসিস্টেম গড়ে তোলে। চিপ উৎপাদনের পাশাপাশি ইলেকট্রনিক্স, প্যাকেজিং, টেস্টিং, গবেষণা, সফটওয়্যার, লজিস্টিকস এবং অসংখ্য আনুষঙ্গিক শিল্প গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়। ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ দুই ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে প্রকল্পের আকার, বিনিয়োগের পরিমাণ এবং উৎপাদনের ধরন এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট করা হয়নি। তাই এখনই নির্দিষ্ট কর্মসংস্থানের সংখ্যা বলা সম্ভব নয়।
দুর্গাপুরে আগে থেকেই রয়েছে শক্তিশালী শিল্প পরিকাঠামো, জাতীয় সড়ক, রেল সংযোগ, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এবং দক্ষ প্রযুক্তিগত জনবল। পাশাপাশি এখানকার ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি বছর বহু ছাত্রছাত্রী পাশ করেন। এই মানবসম্পদকে কাজে লাগিয়ে নতুন শিল্প গড়ে উঠলে বহু দক্ষ যুবকের রাজ্যের বাইরে চাকরি খুঁজতে যাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে।
শুধু তাই নয়, বহু বন্ধ বা রুগ্ন শিল্পের জমি নতুন প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের জন্য ব্যবহার করার সম্ভাবনাও বাড়তে পারে। এতে দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে থাকা শিল্পাঞ্চলে নতুন বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি হতে পারে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পও নতুন বাজার পেতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্কও করছেন। সেমিকন্ডাক্টর শিল্প অত্যন্ত পুঁজি-নির্ভর এবং উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীর প্রয়োজন হয়। তাই শুধু ঘোষণা নয়, দ্রুত জমি নির্বাচন, অবকাঠামো নির্মাণ, বিনিয়োগ নিশ্চিতকরণ, বিদ্যুৎ ও জল সরবরাহ এবং দক্ষ জনবল তৈরির উদ্যোগ একসঙ্গে এগোতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে দেরি হলে প্রত্যাশার সুফলও পিছিয়ে যেতে পারে।
দুর্গাপুর একসময় ছিল পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রধান শিল্পশহর। গত কয়েক দশকে বহু শিল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগও কমেছে। এই পরিস্থিতিতে সেমিকন্ডাক্টর ইউনিট বাস্তবায়িত হলে তা শুধু একটি নতুন কারখানা নয়, বরং দুর্গাপুরের শিল্প পুনর্জাগরণের সূচনা হতে পারে বলে মনে করছেন শিল্পমহলের একাংশ।
সব মিলিয়ে, এই ঘোষণা দুর্গাপুরের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। তবে সেই সম্ভাবনা কতটা বাস্তবে রূপ নেবে, কত বিনিয়োগ আসবে এবং কত মানুষের কর্মসংস্থান হবে, তার উত্তর মিলবে প্রকল্পের বাস্তবায়নের গতি ও সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের উপর। বর্তমানে নির্দিষ্ট কর্মসংস্থানের সংখ্যা ঘোষণা করা হয়নি।









