অভিষেক সেনগুপ্ত, জলপাইগুড়ি: মাধ্যমিক সাময়িক আশা জাগালেও উচ্চ মাধ্যমিকে সার্বিক ফলাফলে হতাশার চিত্র তিস্তাপারের জেলায়। কারণ বিশ্লেষণে শিক্ষা মহল। এবারের মাধ্যমিকে প্রথম দশে জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলের অর্চিস্মান মজুমদার স্থান পাওয়ার পর থেকেই উচ্চ মাধ্যমিকে ভালো ফল নিয়ে আশায় বুক বেঁধেছিলেন সবাই। বৃহস্পতিবার ফল ঘোষণা হতেই বোঝা গেল এবারেও সেই পেছনের দিকেই স্থান জেলার। জেলায় উচ্চ মাধ্যমিকে পাশের হার ৮৬ শতাংশের সামান্য বেশি বলে সরকারি সূত্রের খবর।
বিগত কয়েক বছর ধরেই জেলায় শিক্ষার হাল নিয়ে প্রশ্ন শিক্ষামহলের একাংশের। এবারের উচ্চ মাধ্যমিকে প্রথম দশে রয়েছেন ৬৪ জন পড়ুয়া। এই তালিকায় ঠাঁই হয়নি জেলার কোনও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর। এমন কি পাশের হারেও শেষের দিকে স্থান পেয়েছে এই জেলা। ২০২৫ সালেও মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে জেলার সামগ্রিক ফল খারাপ হয়। প্রথম দশের মেধাতালিকায় স্থানও জোটেনি। প্রায় একই চিত্র ছিল উচ্চ মাধ্যমিকেও। তবে, এবারে ৬৮৮ নম্বর পেয়ে মাধ্যমিকে দশম স্থান অধিকার করে জলপাইগুড়ি জিলা স্কুলের অর্চিস্মান মজুমদার। মাধ্যমিকের ভালো ফল আশা জাগায় উচ্চ মাধ্যমিকের ক্ষেত্রেও। তবে, প্রথম দশে স্থান ও পাশের হার, দুই ক্ষেত্রেই দেখা গেল বিপর্যয়। এবিটিএ-র শিক্ষক নেতা কৌশিক গোস্বামী বলেন, “এই হতাশাজনক ফলের পেছনে অনেক কারণ রয়েছে৷”
তাঁর অভিযোগ, উৎশ্রীর নামে অপরিকল্পিত ভাবে বদলির কারণে জেলার প্রত্যন্ত এলাকার স্কুল গুলিতে শিক্ষক-ঘাটতির সৃষ্টি করেছে। স্কুলকে শিক্ষাদানের জায়গার বদলে রেশনের দোকানে রূপান্তরিত করেছিল পূর্বতন সরকার। শিক্ষা বহির্ভূত কাজে শিক্ষকদের ব্যবহার করা হয়েছে। সাধারণ জনগণকে সরকারি শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করতে বিগত সরকার ও জাতীয় শিক্ষানীতি দায়ি বলেও অভিযোগ কৌশিকের। এর পাশাপাশি নিয়োগ দুর্নীতি, পরিকাঠামোগত অভাবকেও দায়ি করেছেন তিনি।
এবারের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার জেলার জয়েন্ট কনভেনার ভৈরব বর্মণ অবশ্য সামগ্রিক ফলাফলকে হতাশা জনক মানতে নারাজ। তাঁর অভিমত, এই প্রথম সেমেস্টার সিস্টেমে পরীক্ষা দিয়েছে পরীক্ষার্থীরা। ওদের রপ্ত হতে সময় লাগবে। আমরা প্রথম দশে নেই ঠিকই কিন্তু ৮৬ শতাংশ পাশের হার খুব একটা যে হতাশাজনক তা নয়। জেলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক সুজিত সরকার বলেন, “জেলায় শিক্ষক ঘাটতি রয়েছে। অনেক স্কুলে পরিকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। গাড়ির অভাবে পরিদর্শকেরা স্কুল পরিদর্শনেও যেতে পারেননি।” বর্তমান সরকারের আমলে ত্রুটিগুলো কাটিয়ে উঠতে পারলে আগামীবার ফল ভালো হবে বলে আশাবাদী তিনি।









