উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, কুলতলি: সুন্দরবনের গভীর অরণ্য, নদী ও খাঁড়ি আজও জীবিকা নির্বাহের একমাত্র ভরসা বহু পরিবারের কাছে। অভাব-অনটনের তাড়নায় পেটের দায়ে প্রতিদিন মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে জঙ্গলে পা রাখছেন স্থানীয় মহিলারা। রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার কিংবা কুমিরের আক্রমণ তাঁদের কাছে নিত্যদিনের আতঙ্ক। ফলে ক্রমশ বাড়ছে ‘বাঘ বিধবা’র সংখ্যা।
কুলতলির মৈপিঠ নগেনাবাদের পঞ্চু মুন্ডা বাঘের আক্রমণে প্রাণ হারানোর পর তাঁর স্ত্রী কমলা মুন্ডা ফের জঙ্গলে কাঁকড়া ধরতে নামতে বাধ্য হয়েছেন। স্বামীর মৃত্যুর করুণ দৃশ্য চোখে ভাসলেও, সন্তানদের মুখে অন্ন তুলতেই আবারও নদী-জঙ্গলেই ভরসা রাখছেন তিনি। একইভাবে অমল দণ্ডপাতের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রীও ছেলেকে নিয়ে আজও জঙ্গলে মাছ-কাঁকড়া ধরতে যান।
স্থানীয় মানুষের দাবি, বন দফতর থেকে সামান্য সহযোগিতা মিললেও সরকারি সাহায্য কার্যত অপ্রতুল। মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর তাঁদের পাশে থেকে লড়াই চালালেও, প্রশাসনের সক্রিয় পদক্ষেপের জন্য অপেক্ষা করছে এই শতাধিক পরিবার।
আসন্ন দুর্গাপুজোয় যখন মা দুর্গার আগমন ঘিরে আনন্দে মেতে উঠবে রাজ্যবাসী, তখনও সুন্দরবনের বাস্তবের দুর্গাদের জীবন-মৃত্যুর লড়াই চলতেই থাকবে জঙ্গলে।










