Home / খবর / জেলায় জেলায় / ভোট পড়ে গেছে আগেই, বুথে গিয়ে হতবাক বৃদ্ধা

ভোট পড়ে গেছে আগেই, বুথে গিয়ে হতবাক বৃদ্ধা

অমল মাজি, দুর্গাপুর: নির্বাচন যতই “নিরাপদ” ও “স্বচ্ছ” বলে দাবি করা হোক, বাস্তব ছবি কখনও কখনও সেই দাবিকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দেয়। দুর্গাপুর পশ্চিম বিধানসভার বেনাচিতি হাই স্কুলের ৮৬ নম্বর বুথে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা সেই প্রশ্নকেই নতুন করে উসকে দিল।

স্থানীয় বাসিন্দা গীতা অধিকারী, যিনি একজন প্রবীণ ভোটার, নির্দিষ্ট সময়ে ভোট দিতে গিয়ে জানতে পারেন, তার ভোট নাকি ইতিমধ্যেই পড়ে গেছে। হাতে বৈধ পরিচয়পত্র, সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ভোটার স্লিপ, সব কিছু ঠিক থাকলেও, ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ আর পেলেন না তিনি। হতবাক বৃদ্ধাকে শেষমেশ খালি হাতেই ফিরতে হয়।
এই ঘটনা নিছক একটি বিচ্ছিন্ন অভিযোগ নয়, এটি সরাসরি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তিকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। ভোটার নিজে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও যদি তার ভোট “আগেই পড়ে যায়”, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই কারা সেই ভোট দিল?

কীভাবে ভোটার যাচাই প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হল?
বুথ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর?
তাহলে নির্বাচন কমিশনের কড়াকড়ি কাগজে না বাস্তবে?
প্রতিবারের মতো এবার একটু বেশি নির্বাচন কমিশন কঠোর নজরদারি, কেন্দ্রীয় বাহিনী, ও ডিজিটাল যাচাইয়ের আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু এই ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে, কড়াকড়ির দাবির সঙ্গে বাস্তবের ফারাক এখনও স্পষ্ট। ভোটার তালিকা যাচাই, পরিচয় নিশ্চিতকরণ, ও বুথ লেভেলের নজরদারিতে কোথাও বড়সড় ফাঁক থেকে যাচ্ছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও অভিযোগের রাজনীতি
ঘটনার খবর ছড়াতেই তৃণমূল প্রার্থী কবি দত্ত বুথে পৌঁছে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের গাফিলতির অভিযোগ তোলেন এবং তদন্তের দাবি জানান। তবে এখানেই প্রশ্ন, এটা কি শুধুই প্রশাসনিক ব্যর্থতা, নাকি এর পিছনে আরও গভীর কোনও সংগঠিত কারচুপি রয়েছে?
গণতন্ত্রের সবচেয়ে
শক্তিশালী অস্ত্র হল সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার। সেই অধিকার যদি এভাবে প্রশ্নের মুখে পড়ে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই ভোটারদের আস্থা নষ্ট হয়। একজন প্রবীণ নাগরিক, যিনি নিজের দায়িত্ব পালন করতে বুথে এসেছিলেন, তার এই অভিজ্ঞতা অন্য ভোটারদের মধ্যেও অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *