আসানসোল: পশ্চিম বর্ধমান জেলায় নয়টি আসনে বৃহস্পতিবার নির্বাচন হবে। এর জন্য নির্বাচন কমিশন সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। এই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে, নির্বাচন কমিশন আসানসোল ও শিল্পাচলের বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাস ভোটের কাজে নিয়েছে। এরফলে বলতে গেলে বাস পরিষেবা বন্ধ হয়ে গেছে। যে কারণে সমস্যায় পড়েছেন নিত্য যাত্রী থেকে সাধারণ মানুষেরা। তারা চরম ভোগান্তি ও দুর্ভোগের সম্মুখীন হচ্ছেন।বুধবার সকালে আসানসোল শহরের জিটি রোডের সিটি বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায় যে, বাস না থাকায় মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অটো ও টোটো চালকরা আকাশছোঁয়া ভাড়া নিচ্ছেন। কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানতে পারা গেল, তাঁরা যেখানে আগে বাস ভাড়ার জন্য ১০ বা ২০ টাকা দিতেন। এখন সেখানে অটো-রিক্সা ও টোটোকে জনপ্রতি ১০০ টাকা করে দিতে হচ্ছে। তারা বলেন, নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এভাবে মানুষকে হয়রানি করা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা বিবেচনা করা জরুরি। ভোটকর্মী ও নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য বাস প্রয়োজন। কিন্তু নিয়মিত যাত্রীদের জন্য তো বিকল্প ব্যবস্থা থাকা উচিত। এমনকি যারা ভোটকর্মী হিসেবে কাজে যাচ্ছিলেন, তাঁরাও ব্যাপক অসুবিধার সম্মুখীন হন। এদিন এমন কয়েকজনের সাথে কথা বললে, তারা জানান যে, তারা ভোটকর্মী। তারা ভোটকেন্দ্রে কিভাবে যাবেন সে সম্পর্কে তারা নিশ্চিত নন। তারা বলেন যে কোনও বাস বা অন্য যানবাহন পাওয়া যাচ্ছে না। এর ফলে তাদের বেশ অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তবে, যখন আমরা এই বিষয়ে অটোচালকদের সাথে কথা বলি, তখন তারা বলেন যে, তারা যদি বেশি ভাড়া নিচ্ছেন তারা আসলে সমাজসেবাই করছেন। এটাও ভেবে দেখার বিষয় যে, যেখানে বাসের ভাড়া ১০ বা ২০ টাকা। সেখানে জনপ্রতি ১০০ টাকা করে ভাড়া নেওয়া কি ধরনের সমাজসেবা করা হচ্ছে? তার উত্তর অটো চালকেরা অবশ্য দিতে পারেন নি। অন্যদিকে, রাজ্য শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি নেতা রাজু আলুওয়ালিয়া বলেন, বৃহস্পতিবারের নির্বাচনের জন্য মঙ্গলবার থেকে বাস নেওয়া হয়েছে। এর ফলে নিয়মিত যাত্রীদের বেশ অসুবিধা হচ্ছে। যখন আমি জানতে পারেন যে, টোটো ও অটোচালকরা এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করে বেশি ভাড়া নিচ্ছে, তখন আমি বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে নিশ্চিত হই যে, যে কারোর কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না। তবে, আসল ছবিটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। বলা যায় যে, নির্বাচনের জন্য বাস তুলে নেওয়ায় টোটো ও অটো চালকেরা এই সময়ে একটি সুযোগ পেয়ে যায়, অসহায় যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া নেওয়ার। তাই তারা এমনটা করেন।










