Home / প্রবন্ধ / গ্রহণ-বর্জনের আবর্তে মানুষের মন

গ্রহণ-বর্জনের আবর্তে মানুষের মন

মানুষের মন এক রহস্যময় গোলকধাঁধা, যার গতিপ্রকৃতি বোঝা প্রায় অসম্ভব। এই মনই যেমন সমাজ ও গণতন্ত্রের স্রষ্টা, তেমনই পরিবর্তনের মূল কারিগর। মনের অন্তর্নিহিত দ্বন্দ্ব, অহংকার আর গ্রহণ-বর্জনের নিরন্তর খেলাই সমাজ ও রাষ্ট্রভাবনার বিবর্তন। লিখলেন অরুণাভ গুপ্ত

বোঝা অসম্ভব

হদিশ পাওয়ার চেষ্টা পণ্ডশ্রম। গ্যাট হয়ে বসে আছে অথচ টুকি…টুকি খেলছে। সকলে একে বলে মন, আর মন থেকেই সব। মন আছে বলেই না মানুষ সব কিছু গড়ছে, কখনো এক মন অন্য মন পাল্টে দিচ্ছে, ভেঙে দিচ্ছে নতুন মনেক বীজ পুঁতছে। ব্যাপার হল মন আছে, তাই মানুষের মনের প্রয়োজনে সব আসে। এই যেমন সমাজ, সমাজনীতি, গণতন্ত্র, গণ-মানসতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা মানবধর্ম, মূল্যবোধ ইত্যাদি আরও কত কী।

সত্যিই তো মানুষ মনের হাঁটাহাঁটি, চালচিত্র না বুঝলে সমাজ শিক্ষা, সমাজ ভাবনা এবং রাষ্ট্র ভাবনার বিবর্তন-উত্তরণ কোনো কিছুই সম্ভব নয়। এমনকী কথায়-কথায় মনীষিদের প্রসঙ্গ টেনে সেই মনকে প্রবোধ দেওয়া চলছে, যে পথে চলছো তা ভারতীয় বা রাজ্য়ভিত্তিক সমাজ-সংস্কৃতির প্রগতির রাস্তাতেই আছে।

স্থিরতা নেই

কেন! মূলে ঐ গ্রিক শব্দ Dialectics, তর্ক-বিতর্কের মধ্যে দিয়ে কোনো দ্বন্দ্ব সমাধানের সূত্র বার করা। লড়াই এই মন বনাম ঐ মন। একটা মন, অনেক মন, দু-পক্ষেই তাই। অর্থাৎ টিম এবং টিমওয়ার্ক। স্বাভাবিক ভাবে একটা মন নেতৃত্ব দেয় ক্যাপ্টেন ভূমিকায়। এপক্ষ ওপক্ষ মন আলাদা নীতি, এক্ষেত্রে সত্য জানার আগ্রহ নেই, লড়াকু মনগুলির আধিপত্য বা প্রভুত্ব কায়েম করাই লক্ষ্য। আসলে মানবমনের মধ্যে মজুত রয়েছে দ্বৈততা, ভালবাসা-ঘৃণা, সৃষ্টি-ধ্বংসের সুপ্ত ইচ্ছা। এক দঙ্গল মন যখন ভেবে বসে আমি ও আমার মানে আমাদের মন সর্বোত্তম, তখন জন্ম নেয় অহঙ্কার আর নি‌শব্দে জন্ম নেয় পতন, প্রতিপক্ষ মন-সমষ্টি তখনই বাজিমাত করে, এই নিয়ম- ভারতবর্ষের শাশ্বত বাণী: সংযতো ভবেৎ। ইতিহাস তো এখনো এমন দৃশ্যই দেখাচ্ছে। অবশ্য এত্ত রূঢ় বাস্তব-অভিজ্ঞতায়, ঘটনার ঘাত-প্রতিঘাতে, মানুষের মন অনবরত যন্ত্রণাবিদ্ধ। জীবনধারণে, জীবনযাপনে সুস্থতা কামনায় মুক্তির পথ খোঁজায় ভিন্ন পথ দিশায় ভরসা রেখেছে। সবটাই মানবমনের চালিচ্চত্র, গ্রহণ ও বর্জন।

আন্তরিক আশা

স্বামী বিবেকানন্দ তুরীয়ানন্দকে একদিন বল্লেন, “আমি এখনও তোমাদের তথাকথিত ধর্মের কিছুই বুঝি না। নিজের বুকের উপর হাত রাখলেন স্বামীজী। কম্পিত কণ্ঠে বললেন, ‘আমার হৃদয় কিন্তু খুব বেড়ে গেছে। আমি অন্যের ব্যথা বোধ করতে শিখেছি। সেই ব্যথা এখন আমার”।

এও সেই মানবমনের গতি-প্রকৃতি। অসংখ্য অসংখ্য মানবমন অপেক্ষায় রইলেন পূর্ণতা প্রাপ্তির শঙ্খধ্বনির আওয়াজের আশায়।

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *