ছবি: বুবাই শীল
অভিষেক সেনগুপ্ত, জলপাইগুড়ি: সীমান্তের কর্কশ কাঁটাতার থেকে চির সবুজ চা বাগান। একদিকে শাল, শিমূল, জারুল ঘেরা বনবস্তি। সকাল থেকেই ওই সব এলাকায় জওয়ানদের নজরদারিতে ভোট হল উৎসবের আমেজে। শহর লাগোয়া তিস্তাপারেও নির্ঝঞ্ঝাট ভোট। বাঙালির উৎসবের ক্যালেন্ডারে ভোট এখন উৎসব।
সকাল থেকেই মেঘ-রোদের লুকোচুরি খেলা। তার মাঝেই চলছে ভোট গ্রহণ। সাতসকাল থেকেই ভোটের লাইনে ভিড় উৎসাহীদের। শহরের পশ্চিম প্রান্তে কিছুটা এঁকেবেকে গিয়েছে করলা নদী। তার পূর্বপ্রান্তে করলাভ্যালি চা বাগান। পাশেই ডেঙ্গুয়াঝাড় চা বাগানের এলাকা। ভোটে আজ সবেতন ছুটি শ্রমিকদের। সকালে দল বেঁধে সবাই হাজির ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে। নেই পাতা তোলার কাজ, বন্ধ কারখানাও। দিনভর ছুটির মেজাজে কাটাবেন তারা। জনৈক শ্রমিক বলেন, “সকালে পরিবার সহ মহল্লার সবাই মিলে ভোটকেন্দ্রে চলে গিয়েছি। ভোট ভালো ভাবেই হয়েছে। কোনও অশান্তি হয়নি।” শহরের তিস্তাপারের উত্তর ও দক্ষিণ সুকান্ত নগর, বিবেকানন্দ পল্লি, বালাপাড়া, সারদাপল্লি এলাকাতেও ভোটের আবহেও সৌহার্দ্যের চিহ্ন। তিস্তা বাঁধের একপাশে বড় ফুলের শিবির। অনতিদূরেই বসে রয়েছেন জোড়াফুলের নেতা কর্মীরা। কোন দলের হেঁসেলে কি রান্না হচ্ছে তার খোঁজ রাখছেন অন্য দলের কর্মীরা। দুপুরের খাবার মিলেমিশে খাওয়ার কথাও বলছেন অনেকে। তবে, সময় বাঁচাতে দু’দলই আমিষ নয়, নিরামিশেই ভরসা রাখছেন তারা।
ভোটকেন্দ্রের পাশেই ঘন জঙ্গল। শ্বাপদের ভয় সর্বত্র। দুপুরের মধ্যেই দল বেঁধে ভোট দিয়ে এলেন ডুয়ার্সের গরুমারা জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন ময়নাগুড়ি বিধানসভার চার বন বস্তির বাসিন্দারা।কালামাটি,চটুয়া,বুধুরাম,চ্যাংমারি চার বন বস্তির বাসিন্দাদের ভোট গ্রহনের ব্যবস্থা হয়েছে কালামাটি কমিউনিটি হলে। ভোটের আগের রাত থেকেই দু চোখের পাতা এক করতে পারেননি বনকর্মীরা। ভোট চলাকালীন যাতে হাতি, চিতাবাঘ-সহ অন্য বন্য জন্তু বিঘ্ন না ঘটাতে পারে সেজন্য সতর্ক নজরদারি চালান তারা। সূর্য পশ্চিমে ঢলে পড়ার আগেই ভোটগ্রহণ শেষ ওই কেন্দ্রে। বুনো-আতঙ্ক কাটিয়ে স্বস্তি পেয়েছেন ভোট কর্মীরাও।










