দুর্গাপুর:
যত ভোটের দিন এগিয়ে আসছে, ততই প্রচারের ঝাঁঝ বাড়াচ্ছেন তৃণমূল সুপ্রিম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার বিকেলে ইস্পাত নগরী দুর্গাপুর সাক্ষী থাকল এক জমকালো প্রচারের। বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই নিজের দলের প্রার্থীদের হয়ে প্রচারে ঝড় তুলতে পথে নেমেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই তিনি পশ্চিম বর্ধমান জেলায় দলের প্রার্থীদের হয়ে একাধিক জনসভা করেছে। এদিন তিনি বেনাচিতি প্রান্তিকা পাঁচমাথা মোড় থেকে ভিড়িঙ্গি মোড় পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার রাস্তায় হাঁটলেন। এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখতে কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হয় গোটা এলাকা। বলতে গেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এদিনের রোডশো হয় একেবারে উৎসবের মেজাজে।
এদিন সকাল থেকেই ইস্পাত নগরী অলিগলি থেকে মিছিল আসতে শুরু করেছিল প্রান্তিকা পাঁচ মাথা মোড়ের দিকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসার সময় যত গড়িয়েছে, ভিড়ও বেড়েছে পাল্লা দিয়ে । কাঁসর, ঘণ্টা, শঙ্খধ্বনি কি ছিল না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই রোডশোতে। আর তার সঙ্গে ছিল ‘জয় বাংলা’ স্লোগান। রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ ফুল ছিটিয়ে স্বাগত জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে এদিন দেখা যায় পশ্চিম বর্ধমান জেলার তিন প্রার্থীকে। তারা হলেন, দুর্গাপুর পূর্ব কেন্দ্রের প্রার্থী প্রদীপ মজুমদার, দুর্গাপুর পশ্চিমের প্রার্থী কবি দত্ত এবং তৃণমূল জেলা সভাপতি তথা পান্ডবেশ্বরের প্রার্থী
নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী।
মুখ্যমন্ত্রীর এদিনের এই রোডশোকে কেন্দ্র করে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছিল পুলিশ প্রশাসনের তরফে । প্রান্তিকা থেকে ভিড়িঙ্গি পর্যন্ত গোটা রাস্তা সিসিটিভি এবং ড্রোনের নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। রাস্তার মোড়ে মোড়ে মোতায়েন ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী। তবে ভিড়ের চাপে মাঝেমধ্যেই ব্যারিকেড ধরে রাখতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকর্মীদেরকে। বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন হাঁটতে হাঁটতে রাস্তার একপাশ থেকে অন্যপাশে যাচ্ছেন হাত নাড়তে নাড়তে।
দলের প্রার্থীদের নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই রোড শো ভোটের আগে অবশ্যই জেলার নেতা ও কর্মীদের মধ্যে বাড়তি অক্সিজেন যে দিয়েছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা । রাজনৈতিক মহলের মতে, দুর্গাপুর মহকুমার এই তিন কেন্দ্র দখল রাখা ঘাসফুল শিবিরের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। আর সেই লক্ষ্যেই প্রচার চালাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । তবে, দুর্গাপুরের মাটিতে এই রোডশোর প্রভাব ইভিএমে কতটা পড়ে, সেটা দেখা যাবে আগামী ৪ মে।









