ওড়িশার সমুদ্রসৈকতে শুটিং করতে গিয়ে রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় স্তব্ধ টলিপাড়া। জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকালপ্রয়াণ ঘিরে একের পর এক প্রশ্ন উঠছে, সামনে আসছে পরস্পরবিরোধী বয়ান। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়, তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে বিনোদন মহলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওড়িশার তালসারি সৈকতে শুটিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি ছিল না। তা সত্ত্বেও কীভাবে শুটিং চলছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রথমে খবর ছড়ায়, শুটিং শেষ হওয়ার পর এই দুর্ঘটনা ঘটে। কিন্তু পরে পরিচালক দাবি করেন, শুটিং চলাকালীনই ঘটনাটি ঘটে। এই পরস্পরবিরোধী তথ্য নিয়েই তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের প্রযোজনা সংস্থার পক্ষ থেকে লীনা গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, চিত্রনাট্যে জলের কোনও দৃশ্যই ছিল না। ফলে প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে এবং কেন গভীর জলের দিকে এগিয়ে গেলেন অভিনেতা? উপস্থিত এত মানুষের মধ্যেও তাঁকে আটানো হল না কেন—তা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকে।
ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গিয়েছে, জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে রাহুলের এবং দীর্ঘ সময় তিনি জলের নিচেই ছিলেন। এতক্ষণ ধরে জলে থাকার পরও কেন দ্রুত উদ্ধার করা গেল না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সমুদ্রসৈকতে শুটিংয়ের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা—যেমন লাইফ জ্যাকেট, লাইফ বোট বা জরুরি চিকিৎসা—কেন ছিল না, সেই নিয়েও ক্ষোভ বাড়ছে।
টলিপাড়ার একাধিক অভিনেতা-অভিনেত্রী, যেমন শ্রীলেখা মিত্র ও সুদীপ্তা চক্রবর্তী, এই ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের প্রশ্ন, যথাযথ নিরাপত্তা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকলে কি এই মৃত্যু এড়ানো যেত না? অনুরাগীদেরও একই মত—ঘটনাস্থলে জরুরি চিকিৎসক থাকলে হয়তো বাঁচানো সম্ভব হত অভিনেতাকে।
এদিকে পরিচালক পারমিতা মুন্সী আরও বড় প্রশ্ন তুলেছেন—দেশের অন্য কোনও চলচ্চিত্র বা টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে শুটিং করতে গিয়ে এভাবে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে কি? এই প্রশ্ন এখন গোটা টলিপাড়া থেকে সাধারণ দর্শক—সবার মনেই ঘুরপাক খাচ্ছে।
সব মিলিয়ে, এক প্রতিভাবান অভিনেতার অকালমৃত্যুর শোকের পাশাপাশি নিরাপত্তা ঘাটতি ও দায়বদ্ধতা নিয়ে তীব্র বিতর্কে সরগরম বাংলা বিনোদন জগত।









