মুকুট তপাদার
মিউজিয়াম প্রেমীদের জন্য স্বস্তির খবর। সরকারি হস্তক্ষেপে, অবশেষে বন্ধ হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে নেহেরু চিলড্রেন মিউজিয়াম। ৬ই আগস্ট, বৃহস্পতিবার মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষের তরফে সোশাল মিডিয়ায় এই খবর জানানো হয়েছে।
এই খবরের মাঝেই মিউজিয়ামের হল ঘরে শুরু হয়েছে এক অনন্য প্রদর্শনী। ‘কলকাতা কথকতা’র বিশেষ উদ্যোগে নেহেরু চিলড্রেন্স মিউজিয়ামে আয়োজিত হয়েছে বিশেষ প্রদর্শনীটি। যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘সই-সাবুদ’। ৬ই আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এই প্রদর্শনীটি চলবে আগামী রবিবার, ৯ই আগস্ট পর্যন্ত। এই প্রদর্শনীতে বহু বিখ্যাত মানুষদের সংগৃহীত সই (অটোগ্রাফ) প্রদর্শিত হচ্ছে। ইতিহাসপ্রেমী ও সংগ্রাহকদের জন্য এটি এক দারুন অভিজ্ঞতা। সই জমানো বা সংগ্রহের অভ্যেস আজকাল বন্ধ হয়ে গেছে ঠিকই। তবুও সই জমানো এখনো টিকে রয়েছে নিজের মত করে। যার মূল্য অনেক, ফেলে আসা সময়ের চিহ্ন।
প্রদর্শনীর মূল আকর্ষণসমূহ লর্ড কার্জন, ওয়ারেন হেস্টিংস থেকে শুরু করে দেশনায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সই। ঠাকুরবাড়ির মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং নগেন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিজস্ব সই প্রদর্শনীতে শোভা পাচ্ছে। এছাড়াও, ১৮০২ সালের একটি ঐতিহাসিক নথিতে বিখ্যাত ব্যবসায়ী রামদুলাল দে সরকারের সই দর্শনার্থীদের নজর কাড়বে।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সইও ঠাঁই পেয়েছে এখানে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাঙালি ইতিহাসবিদ ও গবেষক নীহাররঞ্জন রায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিঠি প্রদর্শনীতে দেখা যাবে। রস সাহিত্যিক শিবরাম চক্রবর্তীর ‘বেতার’ বিষয়ক হাতে লেখা চিঠি এখানে প্রদর্শিত হচ্ছে।
সত্যজিৎ রায় ও মৃণাল সেনের স্মৃতি বিজড়িত নানা নিদর্শনসহ সই এখানে স্থান পেয়েছে। বাঙালির চির নায়ক উত্তম কুমার এবং সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের সই রয়েছে এই সংগ্রহে। পাশাপাশি, বিখ্যাত নাট্যকার শিশির কুমার ভাদুড়ির একটি দুষ্প্রাপ্য ছবি ও সইযুক্ত চিঠি রয়েছে। রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্তের বিখ্যাত নাটক ‘ভালোমানুষ’-এর বিশেষ স্মৃতি ও তাঁর স্বাক্ষর প্রদর্শনীটিতে আছে।

ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য রয়েছে ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক অজিত ওয়াদেকর ও কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কারের সই। মেসি থেকে শাহরুখ খানের সই সহ পোশাকের কালেকশন প্রদর্শনীতে এলে দেখা যাবে। এমন এক দুর্লভ সংগ্রহের প্রদর্শন রবিবার পর্যন্ত চলবে। এই সকল সই নিয়ে থাকছে এক মিনি সই বা অটোগ্রাফের খাতা।
তথ্যসূত্র: কলকাতা কথকতা










