আসানসোলে বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সভায় ‘কয়লা মাফিয়া’র উপস্থিতির অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল। গলায় ঝোলানো VIP পাস, সভার প্রথম সারিতে আসন এবং প্রবেশের অনুমতি, সবকিছু ঘিরেই উঠল একাধিক প্রশ্ন। শেষ পর্যন্ত দলীয় নেত্রীর হস্তক্ষেপে ওই ব্যক্তিকে সভা থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনায় বিজেপির অন্দরেই শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
আসানসোলের রবীন্দ্রভবনে বিজেপির ‘লাভার্থী সম্পর্ক অভিযান’ উপলক্ষে আয়োজিত সভায় এই ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। দলীয় সূত্রের দাবি, অত্যন্ত বাছাই করা নেতৃত্ব ও আমন্ত্রিতদেরই সভায় প্রবেশের অনুমতি ছিল। কিন্তু সেই কড়া নিরাপত্তা ও প্রবেশ নিয়মের মধ্যেই মহঃ আনোয়ার নামে এক ব্যক্তিকে গলায় VIP পাস ঝুলিয়ে প্রথম সারিতে বসে থাকতে দেখা যায়।
অভিযোগ ওঠে, ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কয়লা ব্যবসা ও ‘সিন্ডিকেট’-এর সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন আসানসোল সাংগঠনিক জেলা বিজেপির মাইনরিটি সেলের সভানেত্রী নাজনিন সাবিয়া। তাঁর অভিযোগ, জামুড়িয়ার বাসিন্দা মহঃ আনোয়ার বারাবনি ব্লকের পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়ো নথির মাধ্যমে সভায় প্রবেশ করেছিলেন।
নাজনিন সাবিয়ার বক্তব্য, বিজেপির কোনও কর্মসূচিতে সমাজবিরোধী, সিন্ডিকেট বা বিতর্কিত কোনও ব্যক্তিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। এরপরই ওই ব্যক্তির গলায় থাকা পাস ও ফাইল নিয়ে তাঁকে সভাস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সভাস্থলে কিছুটা উত্তেজনাও তৈরি হয় বলে জানা গেছে।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মহঃ আনোয়ার। তাঁর দাবি, বর্তমানে তিনি ইট-পাথরের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। এক বন্ধুর সঙ্গে সভাটি দেখতে এসেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। ফলে তাঁকে ‘কয়লা মাফিয়া’ হিসেবে চিহ্নিত করার অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
ঘটনার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে বিজেপির সভার প্রবেশপত্র যাচাই ব্যবস্থা নিয়ে। দলীয় সূত্রের দাবি, এই সভায় শক্তি প্রমুখ, মণ্ডল সভাপতি ও সম্পাদক, জেলা সভাপতি ও সম্পাদক, বিধায়ক, মন্ত্রী-সহ নির্দিষ্ট নেতৃত্ব ও আমন্ত্রিতদের প্রবেশের অনুমতি ছিল। এমনকি সংবাদমাধ্যমের প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রশ্ন উঠছে, এত কড়া নিয়মের মধ্যে একজন বিতর্কিত ব্যক্তি কীভাবে VIP পাস গলায় ঝুলিয়ে সভায় ঢুকে পড়লেন?
শুধু ঢোকাই নয়, কীভাবে তিনি সভার প্রথম সারিতে বসার সুযোগ পেলেন, পাসটি কে দিলেন এবং প্রবেশের সময় সেটি কে যাচাই করলেন, তা নিয়েও এখন দলের অন্দরে প্রশ্ন উঠছে।
এদিকে যখন বিজেপি প্রকাশ্যে সমাজবিরোধী ও সিন্ডিকেট-চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলছে, তখন দলেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে এমন ঘটনা নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করেছে।
ঘটনাটি নিছক নিরাপত্তার গাফিলতি, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও বিষয় রয়েছে, তা নিয়েই এখন রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।









