আসানসোল: কয়লাখনির দূষিত জল অজয় নদে ফেলার অভিযোগ এবং স্থানীয় বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের দাবিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠল পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলের চুরুলিয়া এলাকার তারা কোল মাইন্স। শনিবার খনির সামনে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভে সামিল হন স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজেপি নেতা-কর্মীরা। আন্দোলনের জেরে খনি থেকে কয়লা পরিবহন কার্যত সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যায়।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, খনি থেকে পাম্পের মাধ্যমে তুলে নেওয়া নোংরা ও দূষিত জল ক্যানেলের সাহায্যে সরাসরি অজয় নদে ফেলা হচ্ছে। এর ফলে নদের জল এবং সংলগ্ন এলাকার জলস্তর দূষিত হয়ে পড়ছে। গ্রামের পানীয় জল ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে যাওয়ায় বহু মানুষকে বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে জল কিনে খেতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।
শুধু মানুষের পানীয় জল নয়, দূষিত জলের প্রভাবে গবাদি পশুও অসুস্থ হয়ে পড়ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা চললেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
এর পাশাপাশি কর্মসংস্থান নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের অভিযোগ, খনি এলাকায় কাজের ক্ষেত্রে স্থানীয় বেকার যুবকদের অগ্রাধিকার না দিয়ে বহিরাগতদের নিয়োগ করা হচ্ছে। ফলে খনি সংলগ্ন এলাকার মানুষ নিজেদের এলাকায় কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি তাঁদের।
এদিন বিক্ষোভ থেকে স্পষ্ট দাবি ওঠে, অজয় নদে দূষিত জল ও বর্জ্য ফেলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং খনিতে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে স্থানীয় যুবকদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।
আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক ড. বিজন মুখোপাধ্যায় জানান, জলদূষণের সমস্যা সমাধানের জন্য নতুন পাইপলাইন তৈরির কাজ চলছে। পাশাপাশি স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি নিয়েও খনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তবে শুধু আশ্বাসে তাঁরা পিছু হটতে নারাজ। দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
ফলে স্থানীয়দের আন্দোলনের জেরে তারা কোল মাইন্সে কয়লা পরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি কতটা দ্রুত স্বাভাবিক হয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।










