আসানসোল: শনিবার থেকে পশ্চিমবঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে জনগণনা প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ধাপে ধাপে এই প্রক্রিয়া আগামী বছর পর্যন্ত চলবে বলে জানানো হয়েছে।
আসানসোলে পশ্চিম বর্ধমান জেলা শাসকের কার্যালয়ে জেলা শাসক এস. পোন্নাবালম-এর নেতৃত্বে এই কর্মসূচির সূচনা হয়। পাশাপাশি জনগণনা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে একটি বিশেষ ট্যাবলোরও উদ্বোধন করা হয়, যা জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে প্রচার চালাবে।
জেলা শাসক এস. পোন্নাবালম, আসানসোলের আন্তর্জাতিক স্তরের তরুণ শুটার অভিনব সাউ, বারাবনিের বিধায়ক অরিজিৎ রায় এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি বিশ্বনাথ বাউড়ি যৌথভাবে সবুজ পতাকা দেখিয়ে ট্যাবলোটির উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে আন্তর্জাতিক শুটিং প্রতিযোগিতায় কৃতিত্বের জন্য অভিনব সাউকে সংবর্ধনা জানান জেলা শাসক। তিনি বলেন, অভিনব যেভাবে আসানসোল, পশ্চিমবঙ্গ এবং দেশের নাম আন্তর্জাতিক স্তরে উজ্জ্বল করেছেন, তা অত্যন্ত গর্বের বিষয়। এদিন অনুষ্ঠানে অভিনবের বাবা-মাও উপস্থিত ছিলেন।
কেক কেটে জনগণনা কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়। এরপর জেলা শাসক জনগণনার পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, জনগণনাকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন। পাশাপাশি নাগরিকরা চাইলে সরকারি পোর্টালে নিজেরাই স্ব-জনগণনা (Self Enumeration) করতে পারবেন।
তিনি জানান, স্ব-জনগণনা সম্পন্ন হলে একটি ১১ সংখ্যার আইডি দেওয়া হবে। পরে জনগণনাকারীরা বাড়িতে গেলে সেই আইডি দেখালেই সরকারি পোর্টালে জমা দেওয়া তথ্য তাঁরা দেখতে পারবেন। অভিনব সাউ ও বিধায়ক অরিজিৎ রায়কে দিয়ে প্রতীকীভাবে স্ব-জনগণনা করিয়ে এই প্রক্রিয়ার সূচনা করা হয়।
জেলা শাসক বলেন, এই ব্যবস্থা অত্যন্ত সহজ, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর। বিশেষ করে শহরাঞ্চলের বাসিন্দারা এই পদ্ধতির মাধ্যমে জনগণনা প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করতে পারবেন।
এদিন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী ড. অজয় পোদ্দার জেলা শাসকের কার্যালয়ে এসে পুরো কর্মসূচির অগ্রগতি পরিদর্শন করেন। পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সঠিক জনগণনা সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন পর এই জনগণনা হওয়ায় সঠিক তথ্যভাণ্ডার তৈরি হবে, যার ফলে দরিদ্র ও প্রকৃত প্রাপকেরা সরকারি প্রকল্পের সুবিধা আরও সুষ্ঠুভাবে পাবেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে জাতিভিত্তিক জনগণনা হলে প্রত্যেক নাগরিককে নিজের জাতি সম্পর্কে সঠিক তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি, যাতে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সব সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে সমানভাবে পৌঁছায়।










