অমল মাজি, বাঁকুড়া: দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসানের পথে বেলিয়াতোড়–দুর্গাপুর নতুন রেলপথ প্রকল্প। বহু প্রতীক্ষিত এই প্রকল্পে বড় অগ্রগতি হিসেবে বেলিয়াতোড় থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত প্রায় ২৮ কিলোমিটার রুটের যৌথ সমীক্ষা (জয়েন্ট সার্ভে) সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে এই প্রকল্পকে ঘিরে বড়জোড়া এলাকায় নতুন করে রেল যোগাযোগের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহ ও প্রত্যাশা আরও বেড়েছে।
সমীক্ষায় ভারতীয় রেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের পাশাপাশি বিএলঅ্যান্ডএলআরও (BL&LRO), বনদপ্তরের রেঞ্জ অফিসার, সংশ্লিষ্ট সাংসদ ও বিধায়কের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। রেলপথ নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি, বনাঞ্চল এবং অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয় খতিয়ে দেখা হয়।
সূত্রের খবর, যৌথ সমীক্ষা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হওয়ায় প্রকল্পের পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। সব ধরনের সরকারি অনুমোদন মিললেই খুব শীঘ্রই রেলপথ নির্মাণের কাজ শুরু হতে পারে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্ট মহল।
এই রেলপথ চালু হলে দুর্গাপুর ও বাঁকুড়া জেলার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে। শিল্পাঞ্চল, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং প্রতিদিনের যাতায়াতে নতুন গতি আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি দুই জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে বড়জোড়ার ভবিষ্যৎ নিয়েও জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য ও আলোচনায় দাবি করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে বড়জোড়া স্টেশনে ট্রেনের নিয়মিত যাত্রাবিরতি হতে পারে। এমনকি ব্যারেজের উপর দিয়ে রেল চলাচলের সম্ভাবনাও নিয়ে জল্পনা চলছে।
যদিও এখনও পর্যন্ত রেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বড়জোড়া স্টেশন বা সম্ভাব্য রুট নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। তাই বিষয়টি নিয়ে মানুষের আগ্রহ থাকলেও সরকারি ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এটিকে সম্ভাবনা হিসেবেই দেখার পরামর্শ দিচ্ছেন রেল বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, নতুন রেলপথ বা স্টেশন নির্মাণের আগে বিস্তারিত প্রযুক্তিগত সমীক্ষা, পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং একাধিক প্রশাসনিক অনুমোদন প্রয়োজন হয়।
তবে বেলিয়াতোড়–দুর্গাপুর রেলপথের যৌথ সমীক্ষা সম্পন্ন হওয়াকে এই দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলেই মনে করছেন এলাকাবাসী। তাঁদের আশা, আর বেশি দেরি নয়, খুব শীঘ্রই রেল মন্ত্রক প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়ে নির্মাণকাজ শুরু করবে। সেই সঙ্গে বড়জোড়াকেও রেলের মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পথ প্রশস্ত হবে বলে প্রত্যাশা স্থানীয়দের।










