আসানসোল: পুনর্বাসনের নিশ্চয়তা ছাড়া কোনও হকার উচ্ছেদ করা চলবে না, এই দাবিকে সামনে রেখে রবিবার আসানসোলে প্রতিবাদ মিছিল করল সিপিআই(এম)-এর শ্রমিক সংগঠন সিটু ও একাধিক গণসংগঠন।
গীর্জা মোড় থেকে আসানসোল পুরনিগম মোড় পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিলে হকার উচ্ছেদ, স্মার্ট মিটার বসানো, শহরের সম্প্রীতির পরিবেশ এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন আন্দোলনকারীরা।
মিছিলে নেতৃত্ব দেন সিপিআই(এম)-এর রাজ্য নেতা পার্থ মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, শহরকে পরিচ্ছন্ন করার পরিকল্পনা থাকলে সরকারকে প্রথমেই জানাতে হবে উচ্ছেদ হওয়া হকারদের পুনর্বাসনের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা কী। তাঁর কথায়, “গরিব মানুষের পেটে লাথি মেরে উচ্ছেদ করে পরে পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া মানবিক বা গ্রহণযোগ্য কোনও নীতি হতে পারে না।”
পার্থ মুখোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, একদিকে সরকার পুজো পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত রাখার বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে মাঠে নেমে উচ্ছেদ চালানো হচ্ছে। এই দ্বিচারিতায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর আরও অভিযোগ, কোনও লিখিত সরকারি নির্দেশিকা ছাড়াই মৌখিক নির্দেশের ভিত্তিতে পুলিশ ও আসানসোল পুরনিগমকে দিয়ে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতার পরিপন্থী।
বাম নেতৃত্বের দাবি, উচ্ছেদের মাত্র একদিন আগে নোটিস দেওয়া হয়েছে এবং পরদিন মেমো নম্বরবিহীন নির্দেশ জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠনের কর্মীরা দোকানে গিয়ে ব্যবসায়ীদের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলার ঘটনাকেও তাঁরা তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁদের অভিযোগ, এই ধরনের পদক্ষেপে অযথা আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।
এদিনের মিছিল থেকে স্মার্ট মিটার বসানোর বিরোধিতাও জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়। আন্দোলনকারীদের দাবি, স্মার্ট মিটারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করা হচ্ছে, যা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
বাম নেতৃত্ব বিজেপি সরকারকেও কটাক্ষ করে দাবি করে, যারা ভেঙেছে, তারাই এখন গড়ার কথা বলছে।
তাঁদের বক্তব্য, লাগাতার আন্দোলনের চাপেই সরকার উচ্ছেদ ইস্যুতে অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে।
মিছিল শেষে বাম নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, হকারদের পুনর্বাসন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এবং আসানসোলের সম্প্রীতির পরিবেশ ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষার দাবিতে তাঁদের আন্দোলন আগামী দিনেও আরও জোরদার হবে।










