Home / খবর / জেলায় জেলায় / শিল্পা আগরওয়াল হত্যা মামলায় ব্যাংক ম্যানেজারের যাবজ্জীবন, ৮ বছর পর রায়ে সন্তুষ্ট পরিবারের সদস্যরা

শিল্পা আগরওয়াল হত্যা মামলায় ব্যাংক ম্যানেজারের যাবজ্জীবন, ৮ বছর পর রায়ে সন্তুষ্ট পরিবারের সদস্যরা

দুর্গাপুর: দীর্ঘ আট বছরের বিচারপ্রক্রিয়ার পর বহুল আলোচিত শিল্পা আগরওয়াল হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত ব্যাংক ম্যানেজার রাজীব কুমারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল দুর্গাপুর মহকুমা আদালত। মঙ্গলবার অতিরিক্ত জেলা বিচারক (দ্বিতীয়) প্রশান্ত চৌধুরী এই সাজা ঘোষণা করেন। পাশাপাশি অভিযুক্তের উপর ৩০ হাজার টাকা জরিমানাও ধার্য করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি দুর্গাপুরের বেনাচিতির রূপালি অ্যাপার্টমেন্টের লিফটের সামনে একটি পরিত্যক্ত সুটকেস উদ্ধার করে পুলিশ। সুটকেস খুলতেই উদ্ধার হয় এক তরুণীর পচাগলা দেহ। পরে মৃতার পরিচয় জানা যায়, তিনি বাঁকুড়ার মেজিয়া এলাকার বাসিন্দা শিল্পা আগরওয়াল (২৮)। তিনি স্টেট ব্যাঙ্কের মেজিয়া শাখায় ‘ব্যাঙ্ক বন্ধু’ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেই সময় ওই শাখার ম্যানেজার ছিলেন রাজীব কুমার।
তদন্তে উঠে আসে, ঘটনার কয়েক দিন আগে থেকেই নিখোঁজ ছিলেন শিল্পা। পরিবারের সঙ্গে শেষবার ফোনে কথা বলার পর থেকেই তাঁর আর কোনও খোঁজ মেলেনি। তদন্তের অগ্রগতিতে রাজীব কুমারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ এবং পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযোগ, শিল্পাকে খুন করার পর তাঁর দেহ ফ্রিজে লুকিয়ে রাখা হয়। পরে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে দেহটি একটি সুটকেসে ভরে অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে ফেলে রাখা হয়। তদন্তে ফরেনসিক রিপোর্ট-সহ বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ও পারিপার্শ্বিক প্রমাণ আদালতে পেশ করা হয়। মামলার শুনানিতে মোট ২১ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।
সমস্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ ও নথিপত্র খতিয়ে দেখে সোমবার আদালত রাজীব কুমারকে দোষী সাব্যস্ত করে। মঙ্গলবার সাজা ঘোষণা করে আদালত তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৩০ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দেয়।
সরকারি কৌঁসুলি দেবব্রত সাঁই জানান, দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার শেষে উপস্থাপিত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই আদালত এই রায় ও সাজা ঘোষণা করেছে।
দীর্ঘ আট বছর পর আদালতের এই রায়ে মৃত শিল্পা আগরওয়ালের পরিবারের সদস্যরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে রায় ঘোষণার পর সাজাপ্রাপ্ত রাজীব কুমার এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
এই রায়ের মাধ্যমে বহু আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচারিক পর্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। আদালতের এই সিদ্ধান্তকে ন্যায়বিচারের প্রতিষ্ঠার দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন আইনজীবী মহলের একাংশ এবং সাধারণ মানুষও।

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *