সালানপুর: বেআইনিভাবে পাথর খাদান চালানোর অভিযোগে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেন সালানপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি ভোলা ওরফে বিজয় সিং। শুক্রবার সকালে তাকে কুলটি থানা থেকে কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে আসানসোল আদালতে পেশ করা হয়। আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে লক্ষ্য করে ডিম ছোঁড়া এবং ‘চোর চোর’ স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় আদালত চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বারাবনি বিধানসভার পাঁচগাছিয়া এলাকা থেকে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ভোলা সিংকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাকে কুলটি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। শুক্রবার সকালে আদালতে পেশ করার জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় নিরাপত্তার স্বার্থে তার মাথায় হেলমেট পরিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশের আশঙ্কা ছিল, অভিযুক্তকে লক্ষ্য করে কেউ আক্রমণ বা কিছু নিক্ষেপ করতে পারে। সেই কারণেই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
তবে আদালত চত্বরে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি ভোলা সিংকে লক্ষ্য করে ডিম ছোঁড়েন এবং তার বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করেন। পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্তকে নিরাপদে আদালতের ভিতরে নিয়ে যায়।
পুলিশের এক আধিকারিক জানান, বেআইনি পাথর খাদান পরিচালনা সংক্রান্ত একটি মামলায় ভোলা সিংকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার তদন্তে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের জন্য তাকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন আদালতে জানিয়েছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই ভোলা সিং প্রকাশ্যে খুব কম দেখা যাচ্ছিলেন। তিনি বারাবনির প্রাক্তন বিধায়ক তথা আসানসোল পুরনিগমের মেয়র বিধান উপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। গত ৪ মে নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন তার দলীয় কার্যালয়েও হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল বলে অভিযোগ।
এর আগে একই মামলায় সালানপুর এলাকার চারজন পাথর ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তদন্তে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নথি হাতে এসেছে বলে জানা গেছে। সেই সূত্র ধরেই আরও কয়েকজনকে খোঁজা হচ্ছিল। ভোলা সিংয়ের গ্রেফতারকে এই তদন্তে বড় সাফল্য বলেই মনে করছে পুলিশ।
এদিকে, তৃণমূল নেতার গ্রেফতারকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এখন আদালতের নির্দেশ এবং পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে নতুন কী তথ্য সামনে আসে, সেদিকেই সবার নজর।










