দুর্গাপুর: বর্ষা নামতেই জল জমা, ডেঙ্গির বাড়বাড়ন্ত, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু কিংবা সরকারি জমি দখল, এবার আর কোনও গাফিলতি বরদাস্ত নয়। স্পষ্ট ভাষায় প্রশাসনকে সতর্ক করলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। মঙ্গলবার দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের সৃজনী প্রেক্ষাগৃহে পাঁচ জেলার প্রশাসনিক কর্তাদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক থেকে কার্যত ‘জিরো টলারেন্স’ বার্তা দিল রাজ্য সরকার।
বৈঠকে মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বর্ষার সময় কোথাও জল জমার ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের জবাবদিহির মুখে পড়তে হবে। এলাকাভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন করে জলনিকাশি ব্যবস্থাকে আরও সক্রিয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জল জমার সমস্যা এড়াতে আগাম প্রস্তুতি এবং নিয়মিত নজরদারির উপর জোর দেওয়া হয়েছে প্রশাসনকে।
শুধু জল জমা নয়, বর্ষাকালে বিদ্যুতের খুঁটি, ল্যাম্পপোস্ট বা বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে শর্ট সার্কিট ও দুর্ঘটনা রুখতেও বিশেষ সতর্কতা নেওয়ার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। তিনি জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কোনও প্রাণহানি হলে তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের দায়িত্ব নির্দিষ্ট করা থাকবে।
ডেঙ্গি মোকাবিলাতেও কড়া অবস্থানের কথা জানিয়ে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ডেঙ্গির কারণে একজন মানুষেরও মৃত্যু মেনে নেওয়া হবে না।
নিকাশি নালা পরিষ্কার রাখা, জমা জল দ্রুত সরানো এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি জমি দখল নিয়েও কড়া হুঁশিয়ারি দেন মন্ত্রী। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, সরকারি জমি বা জায়গা অবৈধভাবে দখল করলে কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না। আইন মেনে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে দখলদারদের বিরুদ্ধে। একইসঙ্গে দামোদর নদী থেকে অবৈধভাবে জল উত্তোলনের বিরুদ্ধেও প্রশাসনকে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রীর বক্তব্য, দুর্গাপুর ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের কাছে দামোদরের জল সরবরাহে কোনও সমস্যা তৈরি হতে দেওয়া হবে না।
এদিনের বৈঠকে পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও বীরভূম জেলার জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, পুলিশ কমিশনার, পুরসভা ও পুরনিগমের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী কলিতা মাঝি ও মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়, লক্ষ্মণচন্দ্র ঘড়ুই, জিতেন্দ্র তিওয়ারি, কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়, সাংসদ সৌমিত্র খাঁ সহ একাধিক জনপ্রতিনিধি।
বর্ষার আগেই প্রশাসনিক প্রস্তুতি খতিয়ে দেখে, কার্যত মাঠে নেমে কড়া নজরদারির বার্তা দিল রাজ্য সরকার, এমনটাই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।









