বারাবনি: সরকারি সম্পত্তিতে দলীয় কার্যালয় পরিচালনার অভিযোগে এবার তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হল তৃণমূল কংগ্রেসের আরও একটি কার্যালয়ে। মঙ্গলবার বারাবনি বিধানসভার পাঁচগাছিয়ায় অবস্থিত তৃণমূল কার্যালয় ‘স্বর্গীয় মানিক উপাধ্যায় স্মৃতিভবন’-এ তালা ঝুলিয়ে দেয় বারাবনি ব্লক প্রশাসন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল বারাবনি থানার পুলিশও। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সরকারি ওই ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হতো। এলাকার প্রাক্তন বিধায়ক তথা আসানসোল পুরনিগমের মেয়র বিধান উপাধ্যায়ের অনুগামীরাই মূলত ওই ভবনে দলীয় কার্যকলাপ পরিচালনা করতেন বলে অভিযোগ।
মঙ্গলবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভবনের গেটে তালা ঝুলিয়ে একটি নোটিশও সাঁটানো হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ভবনটি সরকারি সম্পত্তি এবং বিনা অনুমতিতে প্রবেশ নিষিদ্ধ।
এ বিষয়ে বারাবনি ব্লকের বিডিও শিলাদিত্য ভট্টাচার্য বিস্তারিত মন্তব্য করতে না চাইলেও, তিনি জানান, ভবনটি সরকারি সম্পত্তি। সেই কারণেই সেখানে তালা লাগানো হয়েছে।
অন্যদিকে, বারাবনি পঞ্চায়েত সমিতির শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ তথা তৃণমূল নেতা প্রদীপ মিশ্র বলেন, আমি এসে দেখি তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনা প্রসঙ্গে প্রাক্তন বিধায়ক বিধান উপাধ্যায় বলেন, ওই ভবন সরকারি। সেখানে আগে কমিউনিটি হল ছিল। আমরা ওখানে বসতাম।
তালা ঝোলানো প্রসঙ্গে তিনি সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, কি আর বলবো, সবাই সবকিছু দেখতেই পাচ্ছেন।
এদিকে, এই ঘটনায় তীব্র কটাক্ষ করেছে বিজেপি। বারাবনির বিজেপি বিধায়ক অভিজিৎ রায় বলেন, এটা হওয়ারই ছিল। গত ১৫ বছর ধরে তৃণমূল কংগ্রেস গোটা রাজ্য জুড়ে দখলদারির রাজনীতি করেছে। বারাবনিও তার বাইরে ছিল না। আমি জয়ের পরই বলেছিলাম সরকারি ভবন দখলমুক্ত করা হবে। এবার এই ভবন সংস্কার করে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়া হবে এবং সরকারি অনুষ্ঠানও এখানে করা হবে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন করে বিতর্ক।










