
মুকুট তপাদার
সারা সপ্তাহ কাজের পর রবিবার একদিনের ছুটি পেলে অনেকেই এটিকে পরিবারের সাথে সময় কাটানো জন্যে ঘরের ছোটদের সঙ্গে নিয়ে কাছাকাছি ঘুরতে বেরিয়ে যান। কাজ মেটানোর পর এর থেকে আনন্দের আর কি আছে। কোথায় যাবেন ভাবছেন? দেখে নিন, শ্রীচৈতন্যদেবের জন্মস্থান নবদ্বীপে বিশ্বের বৃহত্তম শ্রীচৈতন্যদেবের মূর্তি। নরহরি ধাম আশ্রমে প্রায় ৬০ ফুট উচ্চতা এই অনন্য মূর্তিটি দর্শন করে নিন।
কাছেই মাত্র দু তিন মিনিট দূরত্বে আছে নিদয়ার ঘাট ও নিমাই জন্মস্থান মন্দির আশ্রম। যদিও জন্মস্থানটি এই জায়গাতেই ছিল কিনা সেই নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। বলা হয়, প্রাচীন সেই স্থানটি গঙ্গার তলদেশে। ১৫১০ সালে মহাপ্রভু নিদয়ার ঘাট থেকে নবদ্বীপ ত্যাগ করে গঙ্গা পেরিয়ে কাটোয়ায় সন্ন্যাস গ্রহণ করেন। নাম হয় ‘শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য মহাপ্রভু’।
মা শচী দেবী এই ঘাটকে নিদয় বা নির্দয় বলেন, কারণ তাঁর প্রাণের নিমাই এই ঘাট থেকে গৃহত্যাগ করেছিলেন। মহাপ্রভু তাঁর অন্তরঙ্গ ভক্তদের নিয়ে নবদ্বীপেই বাংলায় প্রথম হরিনাম সংকীর্তন শুরু করেন।
বহু ইতিহাসের সাক্ষী আজকের নবদ্বীপ ধাম। ৬০ ফুট উচ্চ বিশ্বের বৃহত্তম মহাপ্রভুর মূর্তিটি দেখতে প্রতিদিন বহু মানুষের সমাগম হয়। মায়াপুর থেকে লঞ্চে নদী পেরিয়ে পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থীদের আগমন ঘটে এই মূর্তি দেখতে।
যাতায়াতের নির্দেশ: হাওড়া থেকে কাটোয়া লোকাল বা নবদ্বীপ গামী যেকোনো ট্রেনে চেপে সরাসরি নবদ্বীপ ধাম স্টেশনে পৌঁছানো যাবে। স্টেশনে নেমে টোটো বা অটো রিকশায় সহজেই ঘুরে নিন। গঙ্গা পার হয়ে যেতে পারেন মায়াপুর ইসকন মন্দির। পুণ্যার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে নিয়মিত ফেরি চলাচল করে নিদয়ার ঘাট থেকে মায়াপুর ইসকন মন্দির।










