দুর্গাপুর: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে কি? চলতি বছরের দুর্গাপুজো ও কালিপুজোর পরেই দুর্গাপুর মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন-এর নির্বাচন হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
বৃহস্পতিবার বিকেলে দুর্গাপুরের সৃজনী প্রেক্ষাগৃহে পাঁচ জেলার প্রশাসনিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, রাজ্য সরকারের ভাবনায় রয়েছে উৎসবের মরসুম কাটলেই পুরভোট আয়োজন করা।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পুরভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করার ক্ষমতা তাঁর নয়, সেই দায়িত্ব রাজ্য নির্বাচন কমিশনের। তবে তিনি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, “আর দু’-তিন মাস সময় দিন। আশা করছি দুর্গাপুজো ও কালিপুজোর পর দুর্গাপুর পুরসভার ভোট হবে।”
পাশাপাশি তিনি জানান, ভোটের আগে ডিলিমিটেশন এবং নতুন ভোটার তালিকা প্রকাশের কাজ সম্পন্ন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, দুর্গাপুরের দুই বিধায়ক লক্ষণ ঘোড়ুই ও চন্দ্রশেখর ব্যানার্জি তাঁর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। পুরসভার বর্তমান আধিকারিকদেরও সাধারণ মানুষের নাগরিক পরিষেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
দুর্গাপুরবাসীকে আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এবার মানুষ নিজেদের ভোট নিজেরাই দিতে পারবেন এবং “স্বচ্ছ নির্বাচিত পুর বোর্ড” উপহার দেওয়া হবে।
অতীতের ভোট নিয়ে তোপ দেগে তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৭ সালের পুরভোটে বাইরে থেকে লোক এনে ভোটে প্রভাব খাটানো হয়েছিল।
এদিন তিনি ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তিনি দাবি করেন, নতুন সরকারের আমলে রাজ্যে প্রথম নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে হয়েছে এবং বিপুল ভোটদানের মাধ্যমে মানুষ গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, আগামী দিনে গোটা রাজ্যেই উৎসবের আবহে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে দুর্গাপুর পুরসভার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে নির্বাচিত বোর্ড ছাড়াই প্রশাসক মণ্ডলীর মাধ্যমে পুরসভার কাজ চলছিল। বারবার ভোটের দাবি উঠলেও নির্বাচন হয়নি। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যে শিল্পনগরী দুর্গাপুরের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।









