পাণ্ডবেশ্বর: একসময় ভোর হতেই কাজে বেরিয়ে পড়তেন এলাকার রাজমিস্ত্রি ও নির্মাণ শ্রমিকরা। এখন সেই হাতগুলোই দিনের পর দিন খালি। বালির তীব্র সংকটে কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পাণ্ডবেশ্বরের নির্মাণ শিল্প। কাজ হারিয়ে চরম আর্থিক দুরবস্থার মুখে পড়েছেন শতাধিক রাজমিস্ত্রি, নির্মাণ শ্রমিক, ট্রাক্টর মালিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা।
সোমবার ন্যায্য মূল্যে বালির সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবিতে পাণ্ডবেশ্বর ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও)-এর কাছে স্মারকলিপি দেন ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। তাঁদের অভিযোগ, নির্বাচনের পর থেকেই এলাকায় বালির সরবরাহ কার্যত ভেঙে পড়েছে। অবৈধ বালি উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কড়াকড়ির ফলে বৈধ বালিও সহজে পাওয়া যাচ্ছে না। তার জেরেই বাজারে বালির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, বর্তমানে এক ট্রলি বালির দাম ৬ থেকে ৭ হাজার টাকায় পৌঁছে গিয়েছে। এত বেশি দামে বালি কিনে বাড়ি নির্মাণ করা সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। ফলে ব্যক্তিগত বাড়ি নির্মাণের পাশাপাশি সরকারি আবাস যোজনার বহু কাজও বন্ধ হয়ে রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিন আনা দিন খাওয়া শ্রমিকরা। এক রাজমিস্ত্রির কথায়, “গত চার মাস ধরে নিয়মিত কোনও কাজ নেই। ধারদেনা করে সংসার চালাতে হচ্ছে। অনেক সময় পরিবারের মুখে দু’বেলা খাবার তুলে দিতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। দ্রুত বালির সমস্যা না মিটলে আমাদের না খেয়ে থাকার পরিস্থিতি তৈরি হবে।”
শুধু শ্রমিক নন, ট্রাক্টর মালিকদেরও একই অবস্থা। বালি পরিবহন বন্ধ থাকায় তাঁদের গাড়ি দিনের পর দিন দাঁড়িয়ে রয়েছে। কিস্তি, রক্ষণাবেক্ষণ ও সংসারের খরচ সামলাতে চরম সমস্যায় পড়েছেন তাঁরাও।
বিডিও গোপাল সরকার জানান, এলাকার মানুষ তাঁদের সমস্যার কথা জানিয়েছেন। বিষয়টি মূলত ভূমি ও রাজস্ব দপ্তরের অধীন হলেও তাঁদের দাবি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
বালির সংকট দ্রুত কাটিয়ে ন্যায্য দামে সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন নির্মাণ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত সকলেই। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত সমাধান না হলে শুধু নির্মাণ শিল্প নয়, শত শত শ্রমিক পরিবারের জীবিকাই আরও গভীর সংকটের মুখে পড়বে।










