আসানসোল: প্রায় চার বছর আগে দুর্গাপুজোর ঠাকুর দেখানোর প্রলোভন দিয়ে ৬ বছরের এক নাবালিকাকে নিয়ে গিয়ে শ্লীলতাহানির ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত সালানপুরের এক যুবককে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল আসানসোল পকসো আদালত। বুধবার আদালতের বিচারক সুপর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায় এই সাজা ঘোষণা করেন।
দোষী যুবকের নাম সাগর হেমব্রোম, তিনি সালানপুর থানার এলাকার বাসিন্দা। আদালত সূত্রে জানা গেছে, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪ ধারায় এবং পকসো আইনের ৮ ধারায় তাঁকে পৃথকভাবে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে দুটি সাজা একসঙ্গেই চলবে বলে জানিয়েছেন মামলার সরকারি আইনজীবী তাপস উকিল।
এছাড়াও আদালত অভিযুক্তকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করার নির্দেশ দিয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। একইসঙ্গে নির্যাতিতার জন্য ভিক্টিম কমপেনসেশন ফান্ড থেকে ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদানের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ৫ অক্টোবর সালানপুরের ওই ৬ বছরের নাবালিকা বাড়ির সামনে খেলছিল। অভিযোগ, সেই সময় প্রতিবেশী যুবক সাগর হেমব্রোম তাকে দুর্গা ঠাকুর দেখানোর কথা বলে সাইকেলে করে নিয়ে যায়। পরে এলাকার একটি আইসিডিএস কেন্দ্রের কাছে নিয়ে গিয়ে নাবালিকার শ্লীলতাহানি করে।
বাড়ি ফিরে শিশুটি ঘটনাটি পরিবারের সদস্যদের জানালে তার বাবা সালানপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরদিন, ৬ অক্টোবর অভিযুক্ত সাগর হেমব্রোমকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪ ধারা ও পকসো আইনের ৮ ধারায় মামলা রুজু করা হয়।
মামলার শুনানিতে মোট ৮ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। সরকারি আইনজীবী তাপস উকিল জানান, তদন্তকারী সংস্থার উপস্থাপিত তথ্যপ্রমাণ, মেডিক্যাল রিপোর্ট এবং সাক্ষীদের বয়ানের ভিত্তিতে মঙ্গলবার আদালত অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে। এরপর বুধবার তার সাজা ঘোষণা করা হয়।
এই রায়ে নির্যাতিতার পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেছে। শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধের ক্ষেত্রে দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির বার্তা সমাজে পৌঁছে দেবে বলেই মনে করছেন আইনজীবী মহলের একাংশ।









