দুর্গাপুর: একসময় পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইউরিয়া উৎপাদনকারী কেন্দ্র ছিল দুর্গাপুরের হিন্দুস্থান ফার্টিলাইজার কর্পোরেশন লিমিটেড (এইচএফসিএল)। ১৯৭৪ সালে উৎপাদন শুরু হওয়া এই রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা ১৯৯৭ সালে উৎপাদন বন্ধ করে দেয় এবং ২০০২ সালে কেন্দ্র সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে সংস্থাটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কারখানার জন্য প্রথমে প্রায় ১,০০০ একর জমি বরাদ্দ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে এইচএফসিএলের হাতে থাকা ৭৯৯.০৩ একর কারখানা এলাকার মধ্যে ২৫৯.৬১ একর জমি ফেরত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সংস্থার দখলে রয়েছে ৫৩৯.৪২ একর কারখানা এলাকা এবং ২৪৫.২১ একর টাউনশিপ এলাকা, অর্থাৎ মোট প্রায় ৭৮৫ একর জমি।
দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় কারখানার অধিকাংশ যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে পড়ে যায়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অব্যবহারযোগ্য প্ল্যান্ট ও যন্ত্রাংশ ভেঙে বিক্রি করা হয়েছে এবং ২০১৯ সালের মধ্যেই সেই কাজ সম্পন্ন হয়। বর্তমানে বিশাল এই জমির বড় অংশ কার্যত অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্গাপুরের এইচএফসিএলের প্রায় ৫৪১ একর জমির মধ্যে মাত্র ৭৩ একরে পুরনো কারখানা কাঠামো রয়েছে, বাকি ৪৬৮ একর জমি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত। জমি নিয়ে উল্লেখযোগ্য কোনও আইনি জটিলতাও নেই।
এই বিশাল জমি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে শিল্প মহলে। রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই দুর্গাপুরের বন্ধ এমএএমসি, বিওজিএল-সহ একাধিক রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার অব্যবহৃত জমির ব্যবহার নিয়ে সমীক্ষা চালিয়েছে। শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, ফার্টিলাইজার কারখানার এই বিশাল জমিকে শিল্প পার্ক, ইঞ্জিনিয়ারিং হাব, লজিস্টিক পার্ক বা নতুন উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা গেলে দুর্গাপুরে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত খুলতে পারে।
দুর্গাপুরবাসীর একাংশের দাবি, বছরের পর বছর ধরে পড়ে থাকা এই জমিকে দ্রুত শিল্পায়নের কাজে লাগানো হোক। কারণ, একসময়ের শিল্পনগরী দুর্গাপুরে নতুন শিল্প স্থাপনের জন্য এত বড় প্রস্তুত জমি পূর্ব ভারতে খুব কমই রয়েছে।









