সালানপুর: খোলামুখ কয়লাখনি থেকে গত ৮ দিন ধরে নিখোঁজ থাকা এক যুবতীর পচাগলা মৃতদেহ উদ্ধার হল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল আসানসোলের সালানপুর থানা এলাকার ইসিএলের বনজেমারি ওসিপি বা খোলামুখ কয়লাখনি এলাকায় । রবিবার সকালে এই ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ এলাকায় আসে ও মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় আসানসোল জেলা হাসপাতালে। মৃত যুবতীর নাম পূর্ণিমা বাউরি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সকালে বনজেমারী ওপেন কাস্ট প্রজেক্টের (ওসিপি) বা খোলামুখ কয়লাখনি ভেতরে পাথরের খাঁজে থেকে একটি পচাগলা দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খনির ভেতর দেহ উদ্ধারের খবর চড়াও হতেই গোটা এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়। মানুষেরা ঘটনাস্থলে ভিড় জমাতে শুরু করেন। এরপর উপস্থিত স্থানীয়দের মধ্যে একজন যুবতীর পরনের পোশাক দেখে তাকে শনাক্ত করেন। জানা গেছে, মৃত যুবতীর নাম পূর্ণিমা বাউরি (৩৫)। তিনি শিবদাসপুরের বাসিন্দা রাবন বাউরির মেয়ে ।
মৃতার আত্মীয় রঘুনাথ বাউরি বলেন,পূর্ণিমা মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ ছিলেন। প্রায় মেয়েটি বাড়ি থেকে না জানিয়ে বেরিয়ে যেতেন। তবে আবার ঠিক সময়ে ফিরেও আসতেন। কিন্তু গত রবিবার বাড়ি থেকে বেরোনোর পর তিনি আর ফিরে আসেননি। পরিবারের পক্ষ থেকে সালানপুর থানায় একটি নিখোঁজ বা মিসিং করা হয়েছিল। চারদিকে খোঁজখবর চালানো হচ্ছিল। কিন্তু তাকে কোথাও পাওয়া যায় নি। শেষ পর্যন্ত রবিবার সকালে কয়লাখনি থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়।
এই মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এটি দুর্ঘটনাজনিত কারণে খনিতে পড়ে গিয়ে মৃত্যু, নাকি এর পেছনে অন্য কোনও রহস্য বা অপরাধমূলক ঘটনা জড়িয়ে রয়েছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
খবর পেয়ে সালানপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বেশ কিছুক্ষণের চেষ্টায় খনির গভীর থেকে পচাগলা দেহটি উদ্ধার করে পুলিশ আসসানসোল জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। ঘটনার সবদিক খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করা হয়েছে বলে সালানপুর থানার পুলিশ জানায়।










