আসানসোল: পশ্চিম বর্ধমান জেলার ছয়টি বিধানসভা কেন্দ্র আসানসোল উত্তর, আসানসোল দক্ষিণ, কুলটি, বারাবানি, জামুরিয়া, রানিগঞ্জের জন্য আসানসোল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে স্ট্রং রুম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার এই ছয়টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের পরে ইভিএম এনে এখানে রাখা হয়েছে। এই কারণে স্ট্রংরুমে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সিসিটিভির মাধ্যমে ২৪ ঘন্টা চলছে কড়া নজরদারি। স্ট্রংরুমের পাহারায় রয়েছে এক কোম্পানি বা প্ল্যাটুন কেন্দ্রীয় বাহিনী।
শুক্রবার সকালে পশ্চিম বর্ধমান জেলার জেলাশাসক ( ডিএম) তথা ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসার বা ডিইও এস পোন্নাবলম আসানসোল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ পরিদর্শন এবং সব কিছু পর্যালোচনা করেন।
এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন , জেলার ছয়টি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য ইভিএম সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে আসানসোল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে স্ট্রং রুম হিসেবে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ইভিএমগুলো আনার সাথে সাথেই, ভোটকর্মী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সেগুলো নামানো হয়। সমস্ত নিয়ম মেনে, সেগুলোকে সিল করে স্ট্রং রুমে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তারা স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা পর্যালোচনার জন্য প্রতিদিন পরিদর্শন করবেন। এই পরিদর্শন নিয়মিত চলতে থাকবে। তিনি আরও বলেন, ভোট গণনার দিনে বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিদের বসার জায়গাগুলিতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হবে। কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর একটি প্ল্যাটুন এসে পৌঁছেছে। যদি কোনও ভোটকর্মীকে তাঁর কর্তব্যে অবহেলা করতে দেখা যায়, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্ট্রং রুম নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপির মধ্যে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের পালাও শুরু হয়েছে। দুদলই একে অপরকে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বদলানোর জন্য অভিযুক্ত করছে। এ প্রসঙ্গে আসানসোল দক্ষিণের বিদায়ী বিজেপি বিধায়ক তথা প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, যেহেতু তৃণমূল গত ১৫ বছর ধরে চুরি ও দুর্নীতি করে শাসন করেছে, এই দলের চুরিতে পিএইচডি রয়েছে। তাই তাদের মনে হয় যে, প্রতিটি নির্বাচনেই এই দল এমন কাজ করে। কিন্তু বিজেপি এভাবে নির্বাচনে জেতে না। বিজেপি উপর জনগণের সমর্থন রয়েছে। তিনি সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী যে, পরবর্তী সরকার বিজেপিরই হবে। স্ট্রং রুম পাহারা দেওয়ার জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের দাবির জবাবে বিজেপি প্রার্থী বলেন যে, তারা যদি মনে করে কোনও অনিয়ম হতে পারে, তাহলে তাদের অবশ্যই এটি পাহারা দেওয়া উচিত। কিন্তু বিজেপিও এটি পাহারা দেবে কারণ একজন বিজেপি কর্মীও জানে যে, তৃণমূল কংগ্রেস কিভাবে নির্বাচনে জালিয়াতি করে জয়লাভ করে আসছে। কিন্তু এবার তৃণমূল কংগ্রেস সেই সুযোগ পাবে না।
এর পাশাপাশি, বৃহস্পতিবারের প্রথম দফার ভোটের জন্য নির্বাচন কমিশনের নেওয়া পদক্ষেপের প্রশংসা করে তিনি বলেন যে, পশ্চিমবঙ্গ দীর্ঘদিন ধরে এমন নির্বাচন দেখেনি। তিনি কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীরও প্রশংসা করে বলেন , তাদের কঠোর পরিশ্রমের কারণেই মানুষ নির্ভয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এসে ভোট দিয়েছেন। তবে, এ বিষয়ে কংগ্রেস প্রার্থী প্রসেনজিৎ পুইতুন্ডি বলেন , বাংলায় বেশ কিছুদিন ধরেই এমনটা চলছে। তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি প্রমাণ করার চেষ্টা করছে যে, এই দুটি ছাড়া বাংলায় অন্য কোনও রাজনৈতিক দল নেই। কিন্তু এটা সত্যি নয়।
তিনি বলেন, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন পরিবর্তনের বিষয়ে টিএমসি এবং বিজেপির দাবি একবারে সত্যি। আমরা সবাই বিভিন্ন রাজ্যে এমনটা হতে দেখেছি। সুতরাং, স্ট্রং রুম পাহারা দেওয়ার কথা উঠলে তাতে কোনও ক্ষতি নেই। তিনি স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার দাবি জানান। কংগ্রেস প্রার্থী বলেন , এত কঠোর পরিশ্রমে নির্বাচন হয়েছে। তাই এবার যেকোনও ধরনের অনিয়ম আটকাতে স্ট্রং রুমকে আরও কিছুদিন সুরক্ষিত রাখতে হবে।










