আসানসোল: অবশেষে ব্যবসায়ীদের চাপে নরম সুর আসানসোল পুরনিগমের। হটন রোডে বহুল চর্চিত অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ অভিযান আপাতত ১৫ দিনের জন্য স্থগিত রাখল পুরনিগম। শনিবার থেকে জোরদার উচ্ছেদ অভিযান চালানোর কথা থাকলেও, শেষ মুহূর্তে সেই সিদ্ধান্তে কার্যত পিছিয়ে এল প্রশাসন। আর এই ঘোষণার পর থেকেই হটন রোড চত্বরে শুরু হয়েছে তুমুল জল্পনা, আলোচনা ও চাঞ্চল্য।
আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল, শুক্রবার ছিল অবৈধ নির্মাণ সরিয়ে নেওয়ার শেষ দিন। শনিবার সকাল ১১টা থেকে জিটি রোডের হটন রোড মোড় থেকে এসবি গড়াই রোডের ইসমাইল মোড় পর্যন্ত চলার কথা ছিল বড়সড় উচ্ছেদ অভিযান। সেই অনুযায়ী গত দুদিন ধরে এলাকাজুড়ে পুরনিগমের তরফে মাইকিংও করা হয়। আতঙ্কে বহু দোকানদার দোকানের সামনে তৈরি অতিরিক্ত শেড, টিন, বাঁশের কাঠামো ও বাড়তি অংশ খুলে ফেলতে শুরু করেছিলেন।
কিন্তু শুক্রবার সকালে আচমকাই বদলে যায় ছবিটা। নতুন করে মাইকিং করে পুরনিগম জানায়, ব্যবসায়ীদের আবেদনের ভিত্তিতে আরও ১৫ দিনের সময় দেওয়া হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা নিজেরাই ফুটপাথ ও রাস্তা দখল করে থাকা বেআইনি অংশ সরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও জানানো হয়।
মাইকিংয়ে স্পষ্ট ঘোষণা করা হয়,
“পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে সমস্ত অবৈধ দখল স্বেচ্ছায় সরিয়ে নিতে হবে। এরপর পুরনিগমের আধিকারিকদের একটি টিম এলাকা পরিদর্শন করবে। তারপর নেওয়া হবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত।”
এই ঘোষণার পরেই হটন রোড ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। কেউ বলছেন, “শেষ সুযোগ”, আবার কেউ মনে করছেন, “আগের মতো এবারও হয়তো আর অভিযান হবে না!” কারণ, অতীতেও একাধিকবার উচ্ছেদের হুঁশিয়ারি দিলেও শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি পুরোপুরি।
তবে এবার পুরনিগমের বার্তা যথেষ্ট কড়া। প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত, নির্ধারিত সময়ের পরও যদি বেআইনি দখল না সরানো হয়, তাহলে বড়সড় উচ্ছেদ অভিযানে নামতে পারে বুলডোজার।
এদিন হটন রোডে দেখা যায়, বহু দোকানদার তড়িঘড়ি নিজেদের দোকানের সামনের বেআইনি কাঠামো খুলছেন। আবার অনেকের মুখে উদ্বেগও স্পষ্ট, “১৫ দিনের পর কী হবে?” সেই প্রশ্নই এখন ঘুরছে ব্যবসায়ী মহলে।
দীর্ঘদিন ধরেই হটন রোডে ফুটপাথ দখল, অবৈধ নির্মাণ ও তীব্র যানজট নিয়ে অভিযোগ উঠছিল। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, রাস্তা কার্যত দখলমুক্ত না হওয়ায় প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে পথচারী ও যানবাহন চালকদের। সেই কারণেই এবার কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটার বার্তা দিয়েছিল পুরনিগম।
কিন্তু বাস্তবে কি সত্যিই হবে উচ্ছেদ? নাকি আবারও “সময় বাড়ানো”র রাজনীতি?
এখন সেটাই দেখার।










