রানিগঞ্জ: বিজয়ের উচ্ছ্বাস, ঢাক-ঢোল, গানের তালে মন্ত্রীর নাচ, আর তারপরই শুরু রাজনৈতিক চর্চা। কিন্তু বিতর্ককে একেবারেই পাত্তা না দিয়ে সোজাসাপ্টা জবাব দিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন এবং শিশু ও নারী কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী তথা অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর স্পষ্ট প্রশ্ন, “মন্ত্রী বা বিধায়ক হলেই কি নাচ করা অপরাধ?”
রবিবার আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের রানিগঞ্জের বাঁশরা এলাকায় পৌঁছতেই বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। ফুলের মালা, স্লোগান, আবির আর বাজনার মধ্যেই খোলা জিপে করে বের হয় বিশাল বিজয় মিছিল। সেই মিছিলে গানের তালে জিপের উপর দাঁড়িয়ে নাচতে দেখা যায় মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে। মুহূর্তে সেই ভিডিও ঘিরে শুরু হয় রাজনৈতিক তরজা।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অগ্নিমিত্রা পালের পাল্টা প্রশ্ন, “বিধায়ক ও মন্ত্রী হওয়ার পর নাচ করা কি নিষেধ?
দীর্ঘ ১৫ বছর পর এই এলাকার মানুষ মুক্ত হাওয়ায় নিঃশ্বাস নিতে পারছেন। সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দে আমিও শামিল হয়েছি।”
তিনি বলেন, মানুষের উচ্ছ্বাস ছিল “বাঁধভাঙা”। তাই তাঁদের সঙ্গে পা মিলিয়ে আনন্দ করেছেন। একইসঙ্গে স্পষ্ট করেন, শুধু উৎসব নয়, উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কাজেও তিনি সমান গুরুত্ব দেবেন। তাঁর কথায়, “মানুষের সঙ্গে সুস্থ সংস্কৃতির চর্চাও করব, আবার বিধায়ক হিসেবে উন্নয়নের কাজও করব।”
এদিন রাজনৈতিক আক্রমণও শানান অগ্নিমিত্রা পাল। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এবং অভিষেক ব্যানার্জি-র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যদি কোনও ভুল কাজ হয়ে থাকে, তাহলে তার হিসেব হওয়া উচিত। ফাইল খোলা হলে তাতে অন্যায় কিছু নেই।”
পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-র নির্দেশের কথাও তুলে ধরে তিনি জানান, রাজ্য সরকারের প্রতিটি বিভাগকে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে এবং মানুষের পরিষেবায় কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।
রাজনীতির উত্তাপের মাঝেই রানিগঞ্জে তাই নতুন বিতর্ক, ‘মন্ত্রী হয়ে নাচ’, না কি মানুষের আনন্দে সামিল হওয়া? জবাব অবশ্য দিয়েছেন অগ্নিমিত্রা নিজেই, “আনন্দ ভাগ করে নেওয়া অপরাধ নয়।”










