জলপাইগুড়ি: বিগত ৮-৯ বছরে শহর ও লাগোয়া এলাকা থেকে ৩৫ টি জলাশয় রীতিমতো ‘ভোজবাজির’মতো উবে গিয়েছে বলে অভিযোগ। ছোট পুকুর, জলাজমি ভরাট করে নির্মাণ কাজও যথেচ্ছ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। পরিবেশের স্বার্থে আদালতের বারস্থ হলেন জলপাইগুড়ির এক পরিবেশপ্রেমী। হাইকোর্টে এ বিষয়ে দায়ের হল জনস্বার্থ মামলাও।
সময়ের সঙ্গে নগরায়ন বেড়েছে শহরে, শহরতলিতে। চাপ পড়েছে পরিবেশের ওপর। প্রয়োজনীয় জমির চাহিদা মেটাতে জমি হাঙরদের হাত পড়েছে জলাশয়ে। তদানীন্তন কেষ্ট-বিষ্টুদের হাত করে বেআইনিভাবে জলাশয় বুজিয়ে শহর, শহরতলি ও লাগোয়া এলাকায় বহু নির্মাণকাজ হয়েছে বলে অভিযোগ। যার প্রভাব সরাসরি পরিবেশের ওপর পড়ছে বলে অভিমত ভূগোল বিশেষজ্ঞদের একাংশেরও। সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা করলেন এক পরিবেশ সচেতন নাগরিক। আবেদনে ওই সব নির্মাণকাজ অবৈধ হলে পুরসভা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তদানীন্তন আধিকারিকদের ভূমিকা সে সময় কী ছিল তা-ও তদন্তের আওতায় আনার আবেদন করেছেন মামলাকারী। এছাড়া ওই জলাজমি গুলিকে পুরানো অবস্থায় ফিরিয়ে আনার দাবিও করা হয়েছে। এমনটাই জানালেন মামলাকারীর আইনজীবি অতীন্দ্র চৌধুরী।
সদর শহরে স্পোর্টস কমপ্লেক্সের উল্টোদিকের করলা পারে এক বহুতল কমপ্লেক্স নির্মাণ নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক, আন্দোলন হয়েছে। সেই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ জ্যোতি প্রসাদ রায় ও বিশ্বজিৎ দত্ত চৌধুরী জানান,নানা বেআইনি নির্মাণ কাজ হয়েছে। আমরা সেই নির্মাণকাজ আটকানোর চেষ্টা আইনি পথে করছি।’ জলাশয় বুজিয়ে নির্মাণ কাজ হওয়ায় জলবদ্ধতা, ভৌম জলের সংকট সৃষ্টি-সহ পরিবেশের সামগ্রিক ক্ষতি হচ্ছে বলেও একাংশ বিশেষজ্ঞের অভিমত। এছাড়া বহু বিরল প্রজাতির প্রাণীও হারিয়ে যেতে বসেছে বলে অভিযোগ। এদিকে স্পোর্টস কমপ্লেক্সের উল্টোদিকের এলাকায় বহুতল নির্মাণকারী সংস্থা আগেই দাবি করেছে যে, তারা সম্পূর্ণ বৈধভাবে এই নির্মাণকাজ করছে।’ শুধু এটাই নয়, জলজমি ভরাট করে নির্মাণের অনেকগুলো অভিযোগ হাতে রয়েছে বলে জানান মামলাকারীর আইনজীবি অতীন্দ্র চৌধুরী। এ বিষয়ে পুরসভা ও তৎকালীন প্রশাসনিক কর্তাদের ভূমিকার কথাও উঠে আসবে বলে জানান তিনি।
জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায় বলেন, “পুরসভা জমির চরিত্র নির্ধারণ করেনা। এজন্য ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর রয়েছে।’ তার সংযোজন, ২০২২ সালে এই বিভাগের দায়িত্ব নেওয়ার পরে সব কাজ অনলাইনে হয়েছে। পুরসভায় নিয়ম মেনেই সব হয়েছে।”
শহরের তরুণ সমাজসেবী নব্যেন্দু মৌলিক বলেন, ‘অন্য জায়গার মতো এখানেও জলা বুজিয়ে ঘর-বাড়ি, নির্মাণকাজ হয়েছে। এই মামলা ভালো জায়গায় গেলে সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে। ধ্বংস হয়ে যাওয়া জলা ও বাস্তুতন্ত্রকে যতটা সম্ভব আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি দোষিদের চিহ্নিত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নিতে হবে আগামী প্রজন্মের স্বার্থে।’
আইনজীবি অতীন্দ্র চৌধুরী জানান, জলা ও পরিবেশ বাঁচাতেই ওই পরিবেশ সচেতন ব্যক্তি মামলা করেছেন। এতে জনস্বার্থ জড়িত। তাদের দাবি এ ধরণের বেআইনি নির্মাণ বন্ধ করে পরিবেশকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার। এছাড়া আরও কিছু আবেদন রয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলা দায়ের হল।










