নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: বুধবার সাত জেলার ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণের সঙ্গেই যবনিকা পতন ঘটল ২০২৬-এর মেগা নির্বাচনের। গত ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ১৫২ আসনের পর আজ ভোট মিটতেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচনী ইতিহাস এক নজিরবিহীন সাক্ষী হয়ে রইল। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (SIR)-র পর এবার ভোটদানের হার ৯০ শতাংশের গণ্ডি ছাড়িয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত মিললেও দ্বিতীয় দফায় ৯০ পার। তবে ভোটযন্ত্রে জনমত বন্দি হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রকাশ্যে এল বিভিন্ন সংস্থার বুথফেরত সমীক্ষার ফলাফল। আর সেই পরিসংখ্যান ঘিরে বাংলার রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে চরম ধোঁয়াশা। অধিকাংশ সমীক্ষায় বিজেপির নবান্ন দখলের ইঙ্গিত থাকলেও, কয়েকটি নামী সংস্থা আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপরেই আস্থা রেখেছে। হাড্ডাহাড্ডি এই লড়াইয়ের চূড়ান্ত ফয়সালা আগামী ৪ মে ।
২৯৪ আসনের বিধানসভায় ম্যাজিক ফিগার ১৪৮। ম্যাট্রিজ়ের সমীক্ষা বলছে, ১৪৬ থেকে ১৬১টি আসন নিয়ে বিজেপি এবার সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছুঁতে চলেছে। তাদের বিপরীতে তৃণমূলের ঝুলিতে থাকতে পারে ১২৫ থেকে ১৪০টি আসন। ম্যাট্রিজ়ের মতোই চাণক্য স্ট্র্যাটেজিও গেরুয়া শিবিরকে ১৫০-১৬০টি আসনে এগিয়ে রেখেছে। এমনকি পি-মার্ক এবং প্রজা পোলের মতো সংস্থাগুলো বিজেপিকে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার অনেক ওপরে স্থান দিয়েছে। বিশেষ করে প্রজা পোল-এর দাবি অনুযায়ী, বিজেপি একাই ১৭৮ থেকে ২০৮টি আসন পেতে পারে, যেখানে তৃণমূল নেমে আসতে পারে ১০০-র নিচে। পোল ডায়েরিও বিজেপিকে ১৪২ থেকে ১৭১টি আসনে জয়ের সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। এই সংস্থাগুলোর সম্মিলিত ইঙ্গিত যদি সত্য হয়, তবে বাংলায় দীর্ঘ দেড় দশকের ঘাসফুল শাসনের অবসান এবং প্রথমবার পদ্ম-শাসনের সূর্যোদয় স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। তবে নির্বাচনী ইতিহাস মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, ২০২১ সালের বহু বুথফেরত সমীক্ষাও বাংলার নাড়ি বুঝতে ভুল করেছিল।
ঠিক এই জায়গাতেই আশার আলো দেখছে শাসক শিবির। পিপল্স পাল্স এবং জনমত পোল্স-এর মতো সংস্থাগুলো সম্পূর্ণ উল্টো মেরুর ছবি তুলে ধরেছে। পিপল্স পাল্স-এর মতে, ১৭৮ থেকে ১৮৯টি আসন নিয়ে দাপটের সঙ্গে ক্ষমতা ধরে রাখবে তৃণমূল। অন্যদিকে জনমত পোল্স আরও এক কদম এগিয়ে ১৯৫ থেকে ২০৫টি আসন দিয়ে তৃণমূলকে নিরঙ্কুশ জয়ের শিরোপা দিচ্ছে। জেভিসি-র সমীক্ষায় অবশ্য লড়াইকে আরও বেশি স্নায়ুযুদ্ধের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের মতে তৃণমূল ১৩১ থেকে ১৫২ এবং বিজেপি ১৩৮ থেকে ১৫৯টি আসন পেতে পারে— অর্থাৎ লড়াই হবে কানায় কানায়। এই সংস্থাগুলোর হিসেবে বিজেপির আসন সংখ্যা গতবারের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও সরকার গড়ার প্রয়োজনীয় সংখ্যায় তারা পৌঁছাতে পারবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো বাম ও কংগ্রেসের অবস্থান। প্রায় প্রতিটি সমীক্ষাই এ রাজ্যে বামেদের শূন্য হাতে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছে। কংগ্রেসের ক্ষেত্রে কয়েকটি সংস্থা এক থেকে তিনটি আসনের কথা বললেও অধিকাংশের মতেই হাত শিবিরেরও ঝুলি শূন্য হতে পারে। তবে পোল ডায়েরি বা অন্যদের পরিসংখ্যানে ‘অন্যান্য’ বা নির্দল প্রার্থীদের ৫ থেকে ৯টি আসনের সম্ভাবনা রাখা হয়েছে, যা ত্রিশঙ্কু পরিস্থিতির ক্ষেত্রে নির্ণায়ক হয়ে উঠতে পারে। সব মিলিয়ে বুথফেরত সমীক্ষার এই গোলকধাঁধা বাংলার মানুষকে কার্যত দ্বিধাবিভক্ত করে রেখেছে।









