ভোট দেওয়ার পর বালিগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। ছবি রাজীব বসু
নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: প্রথম দফার ধারা বজায় থাকল দ্বিতীয় তথা শেষ দফাতেও। বুধবার রাজ্যের ১৪২টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া চলল মোটের উপর শান্তিপূর্ণভাবেই। বিকেল সাড়ে ৪টে পর্যন্ত বড় কোনো রক্তপাত বা বড়সড় সংঘর্ষের খবর মেলেনি। তবে বিক্ষিপ্ত অশান্তি ও রাজনৈতিক তরজায় মাঝেমধ্যেই তপ্ত হয়েছে বিভিন্ন বুথ চত্বর। বিশেষ করে গোটা দেশের নজর যে ভবানীপুর কেন্দ্রের দিকে ছিল, সেখানে যুযুধান দুই প্রার্থী— মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে কেন্দ্র করে পারদ চড়েছিল কয়েক গুণ। গত বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দুর গড় নন্দীগ্রামে হানা দিয়েছিলেন মমতা, আর এবার মমতার দুর্গ ভবানীপুরে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন শুভেন্দু। এদিন ভবানীপুরের ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডে শুভেন্দু অধিকারীকে দেখা মাত্রই তৃণমূল কর্মীদের ‘জয় বাংলা’ স্লোগান এবং ‘চোর-চোর’ কটাক্ষে পরিস্থিতি রণক্ষেত্রের আকার নেয়। পাল্টা ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিতে শুরু করেন বিজেপি কর্মীরা। দুই পক্ষের সংঘাত থামাতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে মৃদু লাঠিচার্জ করতে হয়। তবে সেই সাময়িক উত্তেজনা বাদ দিলে ভবানীপুরের বাকি সময়টা শান্তই ছিল।
একই চিত্র ধরা পড়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়েও। ভাঙড় মানেই ভোটের দিন বারুদের গন্ধ আর বোমাবাজি— এই চেনা ছবি এবার উধাও। এদিন আইএসএফ প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীকে দেখে শাসকদলের কর্মীরা বিক্ষোভ দেখালেও তা বড় কোনো আকার নেয়নি। প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারিতে ভাঙড় এবার অনেকটাই সংযত। অন্যদিকে, হুগলির গোঘাটেও কিছু সময়ের জন্য অশান্তির খবর এসেছিল। সেখানেও দ্রুত পদক্ষেপ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে পুলিশ ও বাহিনী। নির্বাচন কমিশনের তৎপরতায় এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর বুথে বুথে কড়া পাহারায় ভোটাররা নির্ভয়ে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। বিকেল পর্যন্ত কোথাও কোনো বড় বুথ জ্যাম বা ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ সেভাবে দানা বাঁধতে পারেনি।
দ্বিতীয় দফায় বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটদানের হার ৮৯.৯৯ শতাংশ। বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাজ্যে প্রথম দফায় পড়েছিল ৮৯.৯৩ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে পূর্ব বর্ধমানে। সবচেয়ে কম কলকাতা দক্ষিণে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেষ দফার এই তুলনামূলক শান্ত ভোটগ্রহণ আসলে ভোটারদের মেজাজ এবং প্রশাসনের দৃঢ় সংকল্পেরই প্রতিফলন। বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা বাদ দিলে ১৪২টি আসনেই ইভিএম-এ বন্দি হয়েছে প্রার্থীদের ভাগ্য। এখন অপেক্ষা আগামী ৪ মে-র, সেদিনই জানা যাবে এই শান্তিপূর্ণ জনজোয়ার শেষ পর্যন্ত কার ঝুলিতে সাফল্যের ফসল নিয়ে আসে। তবে আপাতত বড় কোনো বিপর্যয় ছাড়াই শেষ দফার ভোট মিটে যাওয়ায় স্বস্তিতে কমিশন ও সাধারণ মানুষ।









