জামুরিয়া: রাতের অন্ধকারে বৈধ কয়লা ব্যবসায়ীদের উপর চলছিল দাপট। আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে কয়লা বোঝাই গাড়ির চালক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের অভিযোগে শেষ পর্যন্ত পুলিশের জালে ধরা পড়ল দুই যুবক। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি পিস্তল, বিপুল পরিমাণ কার্তুজ, খালি ম্যাগাজিন এবং একটি চারচাকা গাড়ি। ঘটনাকে ঘিরে জামুরিয়া ও অন্ডাল এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃতদের নাম মুন্না সিং (৩২), পিতা জনিশ সিং, বাড়ি শঙ্করপুর কোলিয়ারি, থানা অন্ডাল এবং বিজয় সিং (৩৮), পিতা প্রয়াত রমেশ সিং, বাড়ি গাইঘাটা হরিপুর, থানা অন্ডাল, জেলা পশ্চিম বর্ধমান।
জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরেই ইসিএলের বিভিন্ন বৈধ কয়লা ডিপো ও ডিও কয়লা পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ী এবং গাড়িচালকদের কাছ থেকে অভিযোগ আসছিল যে একদল দুষ্কৃতী আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে রাতের বেলায় তোলাবাজি চালাচ্ছে। ভয়ে মুখ খুলতে না পারলেও গোপনে পুলিশের কাছে একের পর এক অভিযোগ জমা পড়ছিল।
অভিযোগের ভিত্তিতে কেন্দা ফাঁড়ির পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গভীর রাতে বিশেষ অভিযান চালায়। পুলিশি অভিযানে হাতেনাতে ধরা পড়ে দুই অভিযুক্ত। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় একটি পিস্তল, বিপুল কার্তুজ, একটি খালি ম্যাগাজিন এবং ঘটনায় ব্যবহৃত একটি গাড়ি।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ধৃতরা কোনও বড় তোলাবাজ চক্রের সদস্য। শুধু এই দুইজন নয়, এর পিছনে আরও কয়েকজন সক্রিয় দুষ্কৃতীর যোগ থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সেই কারণেই বৃহস্পতিবার সকালে ধৃতদের আসানসোল আদালতে পেশ করে পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে কয়লা কারবার ঘিরে সক্রিয় তোলাবাজ চক্রের আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতে পারে। বিশেষ করে কারা এই চক্রকে মদত দিচ্ছিল এবং কোথা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র আসছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পর থেকেই কয়লা ব্যবসায়ী মহলে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। যদিও পুলিশের এই অভিযানে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।










