দুর্গাপুর-ফরিদপুর এলাকায় পঞ্চায়েত সমিতির নামে দীর্ঘদিন ধরে চলা কথিত ‘অবৈধ’ টোল আদায় হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে উঠেছে। বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ধবনী সহ একাধিক এলাকায় টোল আদায় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে বৈধতা ও দুর্নীতির নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ধবনী এলাকায় খোলা আকাশের নিচে বহু বছর ধরে চারচাকা গাড়ি পিছু ২০ টাকা এবং বড় গাড়ির ক্ষেত্রে ৫০ টাকা বা তারও বেশি টাকা আদায় করা হতো। অভিযোগ, পঞ্চায়েত সমিতির নাম ব্যবহার করে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের মদতেই এই টোল ট্যাক্স চালানো হচ্ছিল।
এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, প্রায় সাত-আট বছর আগে একবার টেন্ডার হলেও পরে আর নতুন করে কোনও বৈধ টেন্ডার করা হয়নি। অথচ প্রতিদিনই জোর করে টাকা আদায় চলত। প্রতিবাদ করলেই হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় তৃণমূল নেতার দাবি, টেন্ডারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সামান্য কিছু অর্থের বিনিময়ে বারবার মেয়াদ বাড়িয়ে নেওয়া হতো। অভিযোগ, আদায় হওয়া টাকার বড় অংশই রাজনৈতিক নেতাদের পকেটে যেত।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে টোল আদায়ের আইনি বৈধতা নিয়ে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, যে রাস্তা থেকে টোল আদায় করা হতো সেটি পূর্ত দপ্তরের অধীন। ফলে পঞ্চায়েত সমিতি কীভাবে সেখানে টোল আদায়ের অনুমতি দিল, তা নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ৪ তারিখ থেকেই আচমকাই ধবনী টোল এলাকা কার্যত ফাঁকা হয়ে যায়। এরপর আর কাউকে সেখানে টাকা তুলতে দেখা যায়নি। একইভাবে হেতেডোবা ও সরপি এলাকায় চলা আরও দুটি টোল আদায়ও বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলকে তীব্র নিশানা করেছেন বিজেপি নেতা শ্রীদীপ চট্টোপাধ্যায়।
তাঁর অভিযোগ, “তৃণমূল বিভিন্ন জায়গায় অবৈধভাবে তোলা আদায় করত। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে জোর করে টাকা নেওয়া হতো। রাজ্যে নতুন সরকার আসার পর অবৈধ কাজকর্মের বিরুদ্ধে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাই এখন এই তোলাবাজি বন্ধ হয়ে গিয়েছে।”
যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন দুর্গাপুর-ফরিদপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কল্যাণ শোমন্ডল।
তাঁর দাবি, “টোলটি পঞ্চায়েত সমিতির অধীনেই ছিল। ৩১ এপ্রিল তার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। পরে সরকারি অনুমতি নিয়ে কিছুদিন চালানো হলেও ৪ তারিখের পর থেকে তা বন্ধ রয়েছে। নতুন করে টেন্ডার হবে কি না, তা এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক তরজা তীব্র হয়েছে। সাধারণ মানুষের একাংশের প্রশ্ন, যদি টোল আদায় বৈধ হয়, তাহলে হঠাৎ তা বন্ধ হলো কেন? আর যদি অবৈধ হয়, তাহলে এত বছর প্রশাসন নীরব ছিল কেন? এখন সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে দুর্গাপুর-ফরিদপুরের রাজনৈতিক মহলে।










