অমল মাজি
:বঙ্গ জয়ের লক্ষ্য পূরণ তো হল। কিন্তু, এবার বাংলার মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন? এই নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা জল্পনা চলছিল। অমিত শাহ প্রচারে এসে আগেই জানিয়েছিলেন, বাংলার ভূমিপুত্রই বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী হবে এরাজ্যে। সেক্ষেত্রে কোনও মুখ্যমন্ত্রী মুখ ছাড়াই নির্বাচনে লড়াই করেছে বিজেপি। এবার বঙ্গজয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী পদে কাকে বেছে নেবে বিজেপি, সেই নিয়ে চলছে বিস্তর আলোচনা। একাধিক নামও উঠে আসছে। এই পরিস্থিতিতে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন তা ঠিক করতে আজই কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতৃত্ব। দিল্লি থেকে আসতে পারেন বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একটি দল। সেই দলে থাকছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও রাজনাথ সিং। এদিকে, আজ সকাল ১১ টায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার পূর্ব নির্ধারিত বৈঠক হয়। এই বৈঠকের পরেই রাজনাথ কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে খবর। পরে কলকাতায় আসার কথা রয়েছে অমিত শাহরও।
মুখ্যমন্ত্রীর মুখ বলতে প্রথমেই যে নামটি সবচেয়ে জোরালোভাবে ভেসে উঠেছে, তা হল শুভেন্দু অধিকারীর। তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দু-দু বার নির্বাচনে হারিয়েছেন, যা তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্বকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। গোটা বাংলা চষে ফেলে নিরলস প্রচার করেছেন তিনি, ফলে সাধারণ কর্মীদের মধ্যেও তাঁর গ্রহণযোগ্যতা তুঙ্গে। রাজনৈতিক মহলের মতে, লড়াকু নেতা হিসেবে শুভেন্দুর দাবিই বর্তমানে সর্বাগ্রে। এমনকি বিজেপি কর্মী-সমর্থকদেরও এটাই প্রত্যাশা।
পাশাপাশি বিজেপির অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, মুখ্যমন্ত্রী চেয়ারে বসানো হতে পারে প্রবীণ সাংবাদিক তথা রাজ্যসভার সদস্য স্বপন দাশগুপ্তকে। তাঁকে অনেক ভেবেচিন্তে কলকাতায় পাঠানো হয়েছে। তিনি বাঙালি কিন্তু বিলেতে লেখাপড়া করেছেন। প্রতিটি রাজনৈতিক দল ও নেতৃত্ব সঙ্গে তাঁর অহরহ যোগাযোগ। তা ছাড়া তিনি বিজেপির কোর কমিটিরও সদস্য। সে দিক থেকে দেখতে গেলে ইংরেজি, বাংলা ও হিন্দিতে দক্ষ স্বপনবাবু শুভেন্দুর চেয়ে কয়েক কদম এগিয়ে রয়েছেন।
শুভেন্দু অধিকারী ও স্বপন দাশগুপ্তর পাশাপাশি আলোচনায় উঠে আসছে আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পালের নামও। ফ্যাশন ডিজাইনার থেকে রাজনীতির ময়দানে আসা অগ্নিমিত্রা দলের মহিলা মোর্চার সভানেত্রী হিসেবে নিজের সাংগঠনিক দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। বিধানসভার ভেতরে এবং বাইরে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তাঁর জোরালো কণ্ঠস্বর এবং লড়াকু মনোভাব তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে সামিল করেছে। বিশেষ করে মহিলা ভোটারদের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সুসম্পর্ক তাঁকে এই লড়াইয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সেক্ষেত্রে বিজেপি যদি কোনও মহিলা মুখকে বাংলার শীর্ষপদে বসাতে চায়, তবে অগ্নিমিত্রা পাল যে অন্যতম প্রধান দাবিদার হবেন, তা বলাই বাহুল্য।
জানা গিয়েছে, বিধায়কদের নিয়ে পরিষদীয় দলের বৈঠকে বসবেন রাজনাথ। এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রীর মুখ বাছাই করতে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে পার্লামেন্টারি বোর্ডের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তালিকায় রয়েছেন দিলীপ ঘোষও। খড়গপুর সদর থেকে জিতেছেন তিনি। উঠে আসছে শমীক ভট্টাচার্যের নামও। তবে, তিনি নির্বাচনের প্রার্থী ছিলেন না। সেক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী হতে গেলে তাঁকে আগে কোনও কেন্দ্র থেকে জিতে বিধায়ক হতে হবে। সেক্ষেত্রে এখন তিনি মুখ্যমন্ত্রী হলেও, তাঁকে ৬ মাসের মধ্যে বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জিততে হবে।
উল্লেখ্য, বিজেপি গত কয়েক বছরে বেশ কিছু রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রথাগত বা পরিচিত হেভিওয়েট নেতাদের বদলে অপেক্ষাকৃত নতুন বা নেপথ্যের মুখদের সামনে নিয়ে এসে বারবার সবাইকে চমকে দিয়েছে। দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী করা হয়েছে রেখা গুপ্তকে। অথচ রাজধানীতে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার বড় দাবিদার ছিলেন একাধিক প্রবীণ নেতা।









