ছবি: রাজীব বসু
নিজের গড় ভবানীপুরেই ১৫ হাজারের বেশি ভোটে পরাজয়ের মুখে পড়তে হল ‘ঘরের মেয়ে’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন এভাবেই বঙ্গ রাজনীতিতে এক বড় মোড়ের সাক্ষী হয়ে রইল। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এই পরিণতি অনেকের কাছেই ‘ট্র্যাজিক’ বলেই মনে হচ্ছে।
১৯৮৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে জয় দিয়ে যে রাজনৈতিক উত্থান শুরু হয়েছিল, তার পর এই প্রথম কোনও নির্বাচিত পদে থাকলেন না তিনি। ফলে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সক্রিয় রাজনীতির পর এই হার বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
ইতিহাস বলছে, ভবানীপুর কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি ছিল। ২০১১ সাল থেকে এখানে ধারাবাহিকভাবে জয় পেয়েছে তৃণমূল। দলের শীর্ষ নেতারা—সুব্রত বক্সি কিংবা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়—এই কেন্দ্রে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। এমনকি ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে পরাজয়ের পর উপনির্বাচনে এখান থেকেই জিতে মুখ্যমন্ত্রীর পদে ফিরে আসেন মমতা।
তবে ২০২৬-এ ছবিটা সম্পূর্ণ উল্টো। ‘বাংলার নিজের মেয়ে’ স্লোগান বদলে ‘ভবানীপুরের নিজের মেয়ে’ করে প্রচারে নামলেও শেষরক্ষা হয়নি। নির্বাচনের শেষপর্বে এলাকায় নিবিড় প্রচার, ছোট ছোট জনসংযোগ—সব কিছুই করেছিলেন তিনি। কিন্তু ভোটারদের মন জয় করতে পারেননি।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দীর্ঘদিনের শাসন, স্থানীয় অসন্তোষ এবং রাজ্যজুড়ে তৈরি হওয়া বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবই পড়েছে এই ফলে। সব মিলিয়ে, ৪ মে-র রাত বঙ্গ রাজনীতিতে এক যুগের অবসানের ইঙ্গিত হিসেবেই ধরা হচ্ছে।









