ছবি: রাজীব বসু
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে জমে ওঠা ক্ষোভই শেষ পর্যন্ত বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াল—এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের বড় অংশ। দীর্ঘদিনের শাসনে দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ক্রমশ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছিল। সেই ক্ষোভই ভোটবাক্সে প্রতিফলিত হয়েছে বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে ফলাফল থেকে।
ভোটের শুরু থেকেই বিজেপি দাবি করে আসছিল, রাজ্যজুড়ে এক ধরনের নীরব প্রতিষ্ঠান-বিরোধী হাওয়া বইছে। তৃণমূল সেই দাবিকে খারিজ করে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে পাল্টা আক্রমণ চালালেও, শেষ পর্যন্ত তা জনমনে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। উল্টে এসআইআর এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে সাধারণ মানুষের অসন্তোষই বাড়তে থাকে বলে অভিযোগ।
শুধু সমালোচনায় আটকে না থেকে বিজেপি কৌশলগতভাবে তৃণমূলেরই সামাজিক প্রকল্প রাজনীতিকে আরও বড় আকারে তুলে ধরে। একাধিক ভাতা, আর্থিক সহায়তা এবং নারী-কেন্দ্রিক প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে তারা ভোটারদের কাছে স্পষ্ট বার্তা দেয়—বর্তমান ব্যবস্থার বিকল্প তারা দিতে প্রস্তুত। মহিলাদের জন্য মাসিক ভাতা, পড়ুয়াদের আর্থিক সহায়তা, কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি—সব মিলিয়ে ইস্তেহারে ছিল বিস্তৃত পরিকল্পনা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল সরকারের দীর্ঘদিনের ‘মাস্টারস্ট্রোক’ হিসেবে প্রচারিত সামাজিক প্রকল্পগুলিকেই বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয় বিজেপির এই আগ্রাসী প্রতিশ্রুতি রাজনীতি। পাশাপাশি দুর্নীতি, সিন্ডিকেট রাজ, অনুপ্রবেশ ইস্যুতে লাগাতার আক্রমণ শাসকদলের ভাবমূর্তিকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করে।
বিজেপি শিবিরের দাবি, এই ফলাফল শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, মানুষের আস্থার বড়সড় পরিবর্তনের প্রতিফলন। তাদের মতে, তৃণমূলের প্রতি ‘ঘোর অবিশ্বাস’ থেকেই মানুষ বিকল্প শক্তির দিকে ঝুঁকেছে। যদিও তৃণমূল নেত্রী ফলাফলকে ‘অনৈতিক জয়’ বলে দাবি করেছেন, বিরোধীরা তা মানতে নারাজ। তাদের কথায়, এটি স্পষ্ট জনাদেশ—যেখানে শাসকদলের বিরুদ্ধে ক্ষোভই শেষ কথা বলেছে।










