অভিষেক সেনগুপ্ত, জলপাইগুড়ি: গুয়ান নেলদা বা আকাশের নীল চাঁদ। চরম দুর্গমতার পাশাপাশি রয়েছে রহস্যের হাতছানি। রয়েছে মায়াবী লোককথাও। এবারে হিমাচল প্রদেশের লাহুল-স্পিতি জেলার কাজা অঞ্চলে অবস্থিত দুর্গম শৃঙ্গ ‘চাউ চাউ কাং নিলদা’ (সিসিকেএন) শৃঙ্গ জয়ের পথে অভিযান শুরু করেছেন জলপাইগুড়ির নেচার অ্যান্ড ট্রেকার্স ক্লাবের সদস্যরা। দলের ১১ সদস্যের নেতৃত্বে রয়েছেন পর্বতারোহী ভাস্কর দাস। ৩১ মে শুরু হবে অভিযান।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬,৩০৩ মিটার (২০,৬৭৯ ফুট) উচ্চতায় অবস্থিত দুর্গম শৃঙ্গ। ১৯৩৯ সালে জে.ও.এম. রবার্টস (জেমস ওয়েন মেরিয়ন রবার্টস) প্রথম এই শৃঙ্গ আরোহণ করেন। শনিবার সংগঠনের পদাধিকারীরা সংবাদমাধ্যমকে জানান,১৯৮৮ সালে স্থাপিত উত্তরবঙ্গের এই সংস্থা ইতিমধ্যেই হিমালয়ের বিভিন্ন অঞ্চলে ১১টি সফল শৃঙ্গ অভিযান সম্পন্ন করেছে। এই অভিযানে অভিজ্ঞ ও নবীন মিলিয়ে মোট ১১ জন সদস্য অংশ নিচ্ছেন। দলের নেতৃত্বে রয়েছেন অভিজ্ঞ পর্বতারোহী ভাস্কর দাস। দলের অন্যান্য সদস্যরা হলেন অমিত দাস, জনক কোচ, সৌম্যদীপ দাস, জয়ন্ত সরকার, বিজয় চক্রবর্তী, হিল্লোল রায়, অরিন্দম জানা, সৌম্যদীপ জানা, রাগেশ্রী বৈশ্য এবং ডঃ প্রাপ্তি রায়। দলনেতা ভাস্কর দাস বলেন, “এই পথ মোটেই সহজ নয়। সব মিলিয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে দলকে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ১৩ বা ১৪ জুন শৃঙ্গ জয়ের চেষ্টা করা হবে। ২০ই জুন জলপাইগুড়ি ফিরে আসার কথা দলটির।”

ভাস্কর দাস, অভিযানের দলনেতা
আগামী ৩১ মে অভিযাত্রীদের হাতে জাতীয় পতাকা ও ক্লাবের পতাকা তুলে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযানের সূচনা করা হবে। কথিত রয়েছে, এক ব্যক্তি চাউ চাউ কাং নিলদার এক পরীর প্রেমে পড়েছিলেন। পরীটি তাকে অনুরোধ করেছিল, যেন সে তাদের সম্পর্কের কথা কারও কাছে প্রকাশ না করে। কিন্তু একদিন, অজান্তেই সে তার স্ত্রীর কাছে সেই গোপন কথা বলে ফেলে। ফলে সেই পরী ক্ষুব্ধ হন। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, আজও যখনই কেউ এই শৃঙ্গ আরোহণের চেষ্টা করে, তখনই আবহাওয়া হঠাৎ খারাপ হয়ে ওঠে। কোনো মানুষকে আর তার কাছে আসতে দিতে চান না সেই পরী।









