Home / খবর / জেলায় জেলায় / থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুকে বাঁচাতে বারবার রক্তদান, রাজগঞ্জের আইসি অমিতাভ দাসের মানবিক দৃষ্টান্ত

থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুকে বাঁচাতে বারবার রক্তদান, রাজগঞ্জের আইসি অমিতাভ দাসের মানবিক দৃষ্টান্ত

অভিষেক সেনগুপ্ত, জলপাইগুড়ি: খাকি উর্দির আড়ালে নরম মন। আইনের রক্ষকই যখন জীবন রক্ষক। থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত একরত্তিকে বাঁচাতে বিরল বি-নেগেটিভ গ্রুপের রক্ত দিলেন রাজগঞ্জ থানার আইসি অভিতাভ দাস। শিশুকন্যাটিকে এই নিয়ে বার চারেক রক্ত দিলেন তিনি। তার এই মানবিক প্রয়াস প্রশংসা কুড়িয়েছে বিভিন্ন মহলে।

ধূপগুড়ির এক ক্ষুদ্র সবজি বিক্রেতা সুভাষ দাস। কন্যা সন্তানের জন্মের ৬ মাস বাদে ধরা পড়ে থ্যালাসেমিয়া রোগ। সে সময় কিং কর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন। অনেক জায়গায় আবেদন করেও সাড়া পাননি। ১৮ মাস বয়স থেকেই সেই শিশুকে নির্দিষ্ট সময় অন্তর রক্ত দিতে হয়। শিশুটির ১৮ মাস বয়সে রক্ত জোগাড়ে সমস্যা হওয়ায় ওই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ হয় শহরে বিরল গ্রুপের রক্তদান নিয়ে কাজ করা এক সংস্থার কর্ণধার পম্পা সূত্রধরের সঙ্গে। পম্পার মাধ্যমেই ঘটনার কথা শোনেন সে সময় জলপাইগুড়ির ট্রাফিক আইসি অমিতাভ দাস। রক্তের গ্রুপ মিলে যাওয়ায় শিশুটিকে রক্ত দেন তিনি। সেই শুরু। এর মধ্যে বার চারেক ওই শিশুকে রক্ত দওয়েছেন তিনি। সম্প্রতি রক্ত জোগাড়ে ওই দম্পতি পম্পার দ্বারস্থ হলে ফের এগিয়ে আসেন অমিতাভ দাস। তিনি বর্তমানে রাজগঞ্জ থানার আইসি পদে বহাল। খবর পেয়ে ছিটে এসে হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কে গিয়ে রক্তদান করেন তিনি।

ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্তদান আইসি-র। পাশে সমাজকর্মী পম্পা সূত্রধর

নাড়ির টান না থাকলেও রক্তের টানে বারবার ছুটে আসা খাকি উর্দিধারী আধিকারিকের। তার এই কাজে অভিভূত চিকিৎসকেরাও। শিশুকন্যার বাবা বলেন, “এই বিরল গ্রুপের রক্ত জোগাড়ে আমরা দিশেহারা হয়ে পড়ি। স্যারের এই ঋণ কোনও দিনও শোধ করা যাবে না।” পম্পা বলেন, “শিশুটির বয়স এখন প্রায় তিন বছর। আমাদের কাছে খবর এলে স্যাকে জানাই। ভোট পর্ব মিটতেই উনি ছুটে এসছেন। কোনও বিরক্তি নেই। বরং উনি রক্ত দিতে পেয়ে তৃপ্ত। বি ও এ নেগেটিভ রক্ত জোগাড় করাটা কষ্টসাধ্য।” রাজগঞ্জের আইসি অমিতাভ দাস বলেন, “আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করার পাশাপাশি আর্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোও আমাদের কর্তব্য। আমার রক্তদানে কারও যদি উপকার হয় তো মানসিক তৃপ্তি পাই। সবারই এগিয়ে আসা উচিত।”

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *