ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় বড়সড় কাটছাঁটের ইঙ্গিত মিলেছে। কমিশন নিযুক্ত মাইক্রো অবজ়ার্ভারেরা ইতিমধ্যে ৪ লক্ষ ৪৪ হাজার ৯৭০ জন ভোটারের নথিকে ‘অযোগ্য’ হিসাবে চিহ্নিত করেছেন। সেই তালিকা পাঠানো হয়েছে নির্বাচন কমিশন-এর কাছে। এখনও বহু নথি যাচাই বাকি থাকায় চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এর আগে জানা গিয়েছিল, শুনানিপর্বে প্রায় সাত লক্ষ ভোটার হাজির হননি। মৃত, অনুপস্থিত ও নিখোঁজ হিসাবে চিহ্নিত ৫৮ লক্ষের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল। তার সঙ্গে শুনানিতে অনুপস্থিত ও নথি ‘অযোগ্য’ হওয়া মিলিয়ে মোট ১০ লক্ষের বেশি ভোটারের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে বলে আশঙ্কা।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা। তবে নথি যাচাইয়ের সময়সীমা ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। তার মধ্যে কাজ শেষ না হলে তালিকা প্রকাশ পিছোতে পারে বলেই সূত্রের খবর। প্রয়োজনে কমিশনের কাছে সময় বাড়ানোর আবেদন জানানো হতে পারে।
মাইক্রো অবজ়ার্ভারেরা অন্তত ৩০ লক্ষ ভোটারের নথি পুনরায় যাচাইয়ের জন্য ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) ও সহকারী ইআরও-দের কাছে পাঠিয়েছেন। এ ছাড়া জেলাশাসকদের কাছে এখনও ৪ লক্ষ ৬৬ হাজার ৩২৩টি নথি পড়ে রয়েছে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ২০ লক্ষ ভোটারের নথি নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায়নি।
এসআইআর প্রক্রিয়ায় গ্রহণযোগ্য ১৩টি নথির তালিকা আগেই প্রকাশ করেছিল নির্বাচন কমিশন। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, সেই তালিকার বাইরে জমা পড়া নথি গ্রহণ করা যাবে না। তবুও অভিযোগ উঠেছে, কিছু ক্ষেত্রে তালিকাভুক্ত নয় এমন নথিও গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রয়োজনে তাঁদের কাছে জবাব চাওয়া হতে পারে বলে কমিশন সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।










