Home / খবর / রাজ্য / এসআইআর নিয়ে সরাসরি আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি মমতার, প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টে প্লিড করার বার্তা

এসআইআর নিয়ে সরাসরি আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি মমতার, প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টে প্লিড করার বার্তা

এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রস্তুতির অভাব এবং সাধারণ মানুষের হয়রানির অভিযোগে এবার সরাসরি আইনের পথে হাঁটার বার্তা দিল শাসকদল তৃণমূল। গঙ্গাসাগর থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, প্রয়োজনে তিনি নিজেই সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে মানুষের পক্ষে প্লিড করবেন।

রবিবারই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিয়ে এসআইআর প্রক্রিয়ার ত্রুটি ও কমিশনের কার্যপদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। অভিযোগ, যথাযথ প্রস্তুতি ছাড়াই এসআইআর চালু হওয়ায় সাধারণ মানুষকে অযথা হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। সোমবার গঙ্গাসাগরে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরা আইনের সাহায্য নিচ্ছি। আগামীকাল কোর্ট খুলবে। আইনের পথেই যাব। প্রয়োজন হলে আমিও সুপ্রিম কোর্টে মানুষের হয়ে প্লিড করব।” একই সঙ্গে তিনি নিজেকে একজন আইনজীবী হিসেবেও পরিচয় করিয়ে দেন।

এসআইআর ঘিরে মানুষের আতঙ্ক ও হয়রানি চরমে উঠেছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের দেখানো হয়েছে। শাসকদলের দাবি, এসআইআর সংক্রান্ত শুনানির চাপেই আতঙ্কে একাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এমনকী শুনানির লাইনে দাঁড়িয়েও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ। এই বিষয়টি নিয়ে আগেও বারবার নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

এদিন গঙ্গাসাগরে দাঁড়িয়ে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে একযোগে আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে কটাক্ষ করে ‘ভ্যানিস কুমার’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, “হিয়ারিংয়ের নামে মানুষের হেনস্তা করা হচ্ছে। প্রায় ৫৪ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের ৭ ও ৮ নম্বর ফর্ম পূরণ করার অধিকার ছিল।” তাঁর দাবি, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও তীব্র কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, “হোয়াটস অ্যাপে কমিশন চলছে। হোয়াটস অ্যাপে কিনেছে কিনা কে জানে? মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। আর এটা চললে আপনিও ভ্যানিস হয়ে যাবেন।”

এসআইআর সংক্রান্ত এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের কথা স্পষ্ট করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এত মানুষের মৃত্যু, যেভাবে মানুষকে হেনস্তা করা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে লড়াই হবে। প্রয়োজন হলে আমি নিজেও আদালতের অনুমতি নিয়ে মানুষের হয়ে সুপ্রিম কোর্টে প্লিড করব।” তবে আইনজীবী হিসেবে নয়, সাধারণ নাগরিক হিসেবে তিনি আদালতে গিয়ে ‘গ্রাউন্ড লেভেলে’ কী হচ্ছে, তা তুলে ধরতে চান বলেও জানান প্রশাসনিক প্রধান।

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *